মিরসরাইয়ের ফেনী নদীতে বালি উত্তোলন করতে গিয়ে প্রতিপক্ষের হামলায় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন মিরসরাইয়ের বারইয়ারহাট পৌরসভার মেয়র রেজাউল করিম খোকনসহ তিনজন। আহতরা হলেন মেয়র রেজাউল করিম খোকন (৪৮), হিঙ্গুলী ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ নেতা অশোক সেন (৫০) ও ওসমানপুর ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা সাহেদ খান দুখু (৪৫)।
গতকাল বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মিরসরাই উপজেলার ওসমানপুর ইউনিয়নের ওসমানপুর বাজারের পশ্চিম পাশে ফেনী নদীর বাদামতলা এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।
মেয়র রেজাউল করিম খোকনের সঙ্গে থাকা আবু নাঈম নামে একজন জানান, মিরসরাইয়ের করেরহাট ইউনিয়নে স্থাপিত একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের জায়গা ভরাট করতে ফেনী নদীর মিরসরাই অংশ থেকে ড্রেজার নিয়ে বালি উত্তোলন করতে গেলে ফেনী জেলার ফাজিলপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মজিবুল হক ড্রেজারগুলো আটক করে রাখেন। পরে গতকাল সকালে সেখানে গিয়ে মেয়র রেজাউল করিম খোকনসহ কয়েকজন কেন ড্রেজারগুলো আটক করা হয়েছে তা জানতে চাইলে তাদের ওপর অতর্কিত গুলিবর্ষণ শুরু করে প্রতিপক্ষের ৮-১০ জন অস্ত্রধারী। এ সময় গুলির আঘাতে মেয়র রেজাউল করিম খোকনসহ তিন আহত হন।
জানা গিয়েছে, ফেনী নদীর মিরসরাই অংশে ইজারাবিহীন বালি উত্তোলন কেন্দ্র করে ফেনীর ফাজিলপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মজিবুল হক ও বারইয়ারহাট পৌরসভার মেয়র রেজাউল করিম খোকনের মধ্যে দ্বন্দ্বটা বেশ পুরনো। তারই রেশ ধরে গতকালের ঘটনা ঘটেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফেনী সদর উপজেলার ফাজিলপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবুল হক বলেন, আমি এখানকার বৈধ ইজারাদার। বাইয়ারহাট পৌরসভার মেয়র রেজাউল করিম আমার ইজারা নেয়া এলাকায় অবৈধভাবে বালি তুলতে এলে স্থানীয় লোকজন তাদের তাড়িয়েছে বলে শুনেছি। গোলাগুলির বিষয়টি আমার জানা নেই।
মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বরত চিকিৎসক মাহমুদা আক্তার বলেন, আজ (গতকাল) দুপুর ১২টায় গুলিবিদ্ধ হয়ে রেজাউল করিম, অশোক সেন ও শাহেদ খান নামের তিন ব্যক্তি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের দুজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে, একজন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই চিকিৎসাধীন।
এ বিষয়ে জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নুর হোসেন মামুন বলেন, ফেনী নদীতে বালি তোলার জেরে বারইয়ারহাট পৌরসভার মেয়র রেজাউল করিমসহ কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে শুনেছি। বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।










