কীর্তনখোলা ও আড়িয়াল খাঁর ভাঙনে বিলীন হচ্ছে বরিশাল সদর উপজেলার দুটি ইউনিয়নের ফসলি জমি, স্কুল, মসজিদ, বসতঘর। দুই নদীর করাল গ্রাসে প্রতিনিয়ত ছোট হয়ে আসছে বরিশাল সদর উপজেলার শায়েস্তাবাদ ও চরবাড়িয়া ইউনিয়ন।

এরই মধ্যে শায়েস্তাবাদ ইউনিয়নের চুড়ামন, উত্তর রামকাঠি, কামারপাড়া গ্রাম ও কীর্তনখোলা নদীর মোহনায় চরবাড়িয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ লামচড়ি ও উত্তর লামচড়ি গ্রাম হারিয়ে গিয়েছে। এখন হুমকির মুখে পড়েছে ইউনিয়নের পশ্চিম লামচরি, চরবাড়িয়া বোর্ড স্কুল এলাকাসহ বাকি গ্রামের বেশকিছু ঘর-বাড়ি।

শায়েস্তাবাদ ইউনিয়নের বাসিন্দা গোলাম মোস্তফা বলেন, আমাদের বায়তুল জান্নাত জামে মসজিদ, একটি স’মিলসহ পুরো গ্রাম এখন চরম হুমকির মুখে। যেকোনো সময় নদীতে বিলীন হতে পারে এসব স্থাপনা। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে এ মসজিদসহ রত্তন খা’র বসতঘর বিলীন হয়ে যাবে। প্রাই দেখি রত্তন খাঁ বাড়ির খুঁটি ধরে কান্নাকাটি করেন। অন্য বাসিন্দা হারুন অর রশিদ বলেন, রামকাঠি খেয়াঘাট ও বটগাছ যেকোনো সময় বিলীন হতে পারে। এখানেও ব্যবস্থা নেয়া জরুরি।

শায়েস্তাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আরিফুজ্জামান মুন্না জানান, চার-পাঁচ বছর এ অঞ্চলের ভাঙন বেড়েছে। এভাবে ভাঙন চলতে থাকলে আগামী এক বছরের মধ্যে আমার নিজের বাড়িও নদীতে বিলীন হতে পারে। বিলীন হয়ে পড়বে কামারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ও। তিনি বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড যত কাজ করে সব বর্ষাকালে। এখন কাজ করলে কিন্তু আমাদের দুর্ভোগ কমে যেত।

চরবাড়িয়ার দক্ষিণ লামচরি গ্রামের একসময়ের বাসিন্দা আবুবকর সিদ্দিক বলেন, একসময় আমাদের বাড়ি ও ফসলি জমি ছিল। জমিতে যে ফসল আসত তা দিয়ে পুরো বছর ভালোভাবেই কেটে যেত। এখন দিন কাটে চরম অর্থকষ্টে। পরিবার নিয়ে অন্যের জমিতে কোনো রকম মাথাগোঁজার ঠাই করেছি। একই অবস্থা রহিম ঘরামি, আনোয়ার হোসেনসহ অনেকের। তাদের মতে, এ দক্ষিণ লামচরি ও উত্তর লামচরিতে একসময় স্কুল, মাদ্রাসা, মসজিদ সবই ছিল, এখন তা শুধুই স্মৃতি।

উত্তর রামচরি গ্রামের আইউব আলী বলেন, ভরা বর্ষা মৌসুমে এখানে পানি উন্নয়ন বোর্ড জিওব্যাগ ফেলেছে, যা পানির তোড়ে ভেসে গিয়েছে। জিওব্যাগ দিয়ে এখানকার নদীর ভাঙন ঠেকানো সম্ভব নয়। বর্ষার সময় নদীর স্রোতে জিওব্যাগ প্রকল্প ভেস্তে গিয়েছে। এখন শীত মৌসুমে কোনো প্রকল্প নিয়ে নদীভাঙন ঠেকাতে কেউ আসে না।

এ বিষয়ে বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিব হোসেন বলেন, চলতি বর্ষার মৌসুমে ওই এলাকায় ভাঙন রোধে জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ ফেলা হয়েছিল। এখন কী অবস্থা তা সরেজমিন দেখেই বলতে পারব। ভাঙনরোধে নতুন প্রকল্প গ্রহণের কথাও জানান তিনি। জিওব্যাগ প্রকল্প স্রোতে ভেসে গিয়েছে—এমন অভিযোগের বিষয়ে কোনো বক্তব্য না দিয়ে তিনি বলেন, ঘটনাস্থল দেখে বলতে পারব।

বরিশাল সদর উপজেলা চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান রিন্টু বলেন, চরবাড়িয়ার লামচরি ও সায়েস্তাবাদের চুড়ামনে ভাঙন হচ্ছে। সেখানে আগে থেকেই জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে। এখন আবার ফেলা হবে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে প্রকল্প দেয়া হয়েছে। শিগগিরই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বরিশালের জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দিন হায়দার বলেন, সেখানকার ভাঙনের অবস্থা বেশি খারাপ হলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের নিয়ে পরিদর্শন করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও বরিশাল-৫ আসনের সংসদ সদস্য  কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীম বলেন, সারা দেশেই ভাঙন হয়। যে যার এলাকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখে। সম্ভবত ওই স্থানের জন্য প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। শুধু প্রকল্প করলেই হয় না। এর পাস করানোসহ বিভিন্ন কাজে সময় লাগে। তার পরও আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। ভাঙনকবলিত স্থান পরিদর্শন করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।