নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম ব্যুরো

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মংডুতে সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির মধ্যে সংঘর্ষে মর্টার শেলের বিস্ফোরণে টেকনাফ সীমান্তবর্তী গ্রামের ঘরবাড়িতে ফাটল দেখা গেছে। এছাড়া এ বিস্ফোরণের ঘটনায় অন্তত ২৫টি গ্রামের মানুষ আতঙ্ক নিয়ে বসবাস করছেন। মাঝখানে বেশ কিছুদিন বন্ধ থাকার পর গত কয়েকদিন ধরে আবারো চলমান সংঘর্ষের কারণে সীমান্তবর্তী এলাকায় রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকানোসহ বাড়তি নিরাপত্তা জোরদারের জন্য বিজিবি ও কোস্টগার্ড টহল জোরদার করেছে।

স্থানীয়রা জানান, মিয়ানমারের মংডু রাজ্যের বিপরীতে টেকনাফের পৌরসভার জালিয়াপাড়া থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এবং সাবরাং এর পূর্বে নাফ নদীর ওপারে মংডু শহরের অবস্থান। গত কয়েকদিন ধরে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে তাদের বিদ্রোহী গোষ্ঠীর মধ্যে নতুন করে আবারো সংঘর্ষ চলছে। মূলত এ মংডু রাজ্যটি এখন সামরিক বাহিনীর দখলে আছে। সেজন্য রাজ্যটি নিজেদের দখলে নিতে সশস্ত্র গোষ্ঠী মিয়ানমারের জান্তা সরকারের বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছে। সংঘর্ষে মর্টার শেলের বিস্ফোরণের পাশাপাশি বিমান থেকেও বোমা ফেলে বিস্ফোরণ করা হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। বিস্ফোরণের কারণে থেমে থেমে বিকট শব্দে টেকনাফ সীমান্ত এলাকায় বেশ কয়েকটি গ্রামের বাড়িতেও ফাটল দেখা গেছে। এ ঘটনায় নতুন করে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে এই সংঘর্ষের কারণে টেকনাফ সীমান্তবর্তী গ্রামের বাসিন্দারাও চরম নিরাপত্তাহীনতায় আছেন।

এদিকে টানা বিস্ফোরণের ঘটনায় টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়নের আছারবুনিয়া গ্রামের অন্তত ২০টির বেশি বাড়িতে ফাটল দেখা গেছে। অন্যদিকে মর্টার শেলের বিস্ফোরণের কারণে টেকনাফের তিনটি ইউনিয়নের অন্তত ২৫টি গ্রামের মানুষ আতঙ্কিত হয়ে বসবাস করছে। ফাটলের কারণে কিংবা নতুন করে ফাটল দেখা যেতে পারে এমন আশঙ্কায় এসব গ্রামের মানুষ এখন নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে। অনেকে নিরাপত্তার জন্য এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে। মূলত রাতে বেশি বিস্ফোরণ হচ্ছে। গত সোম ও মঙ্গলবার রাতে অনবরত মর্টল শেলের বিস্ফোরণ হয়েছে। তবে আসলে কোন ধরনের বোমা বিস্ফোরণ হয়েছে সে বিষয়ে নিশ্চিত নন কেউই। তবে বিস্ফোরণের কারণে এলাকা বারবার কেঁপে উঠছে বলে স্থানীয়রা জানান।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আদনান চৌধুরী জানান, মিয়ানমারের মংডুতে বিস্ফোরণের ঘটনায় টেকনাফের সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষ আতঙ্কে আছেন। কিছু বাড়িতে ফাটল দেখা দিয়েছে। আমরা স্থানীয়দের নিরাপদ দুরত্বে থাকার পাশাপাশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছি। রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবি ও কোস্টগার্ড তাদের টহল জোরদার করেছে।