বাংলাদেশে অর্থনৈতিক অঞ্চল নির্মাণ ও মোংলা বন্দর উন্নয়নে চীন বিনিয়োগ করতে আগ্রহী বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন। আজ বৃহস্পতিবার বিডার মাল্টিপারপাস হলে বাংলাদেশে বিনিয়োগ প্রবাহ এবং বিনিয়োগ সহজীকরণ শীর্ষক এক কর্মশালায় তিনি এ কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন চীন সফরে এ নিয়ে আলোচনা হতে পারে। এ সময় চীনের বড় বড় বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বৈঠক করবেন বলে জানান তিনি।

তিনি উল্লেখ করেন, কূটনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে চীন বাংলাদেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। তাই সামগ্রিকভাবে চীন সফর বাংলাদেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। গত পাঁচ বছরে আমরা ধারাবাহিকভাবে দেখেছি যে বাংলাদেশের অন্যতম বড় বিনিয়োগ উৎস হচ্ছে চীন। সেই কারণেই আমরা চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল দ্রুত এগিয়ে নেয়ার জন্য কাজ করছি এবং ইতোমধ্যে একটি ভালো অবস্থানে পৌঁছেছি।

নতুন সরকার যেহেতু পাঁচ বছর দায়িত্বে থাকবে এবং সাধারণভাবে সরকারের প্রথম দুই বছর বিনিয়োগের জন্য সবচেয়ে আদর্শ সময় হিসেবে বিবেচিত হয়। তাই এ সময়টাকে কাজে লাগানোই মূল উদ্দেশ্য বলে জানান তিনি।

তিনি আরো উল্লেখ করেন, দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে বড় বড় অবকাঠামো বিনিয়োগ প্রয়োজন। সেই সম্ভাবনাগুলোই আমরা চীনা সরকারের সামনে তুলে ধরছি—কোন কোন খাতে তারা বিনিয়োগ করতে পারে এবং কেন এখনই বাংলাদেশে বিনিয়োগের সবচেয়ে উপযুক্ত সময়।

বর্তমানে বিনিয়োগ আনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কী- এমন প্রশ্নে বিডা চেয়ারম্যান বলেন, এক বছর আগে যখন আমি দায়িত্ব গ্রহণ করি, তখনই দেখেছি বাংলাদেশের অন্যতম বড় সমস্যা জ্বালানি সংকট। এ নিয়ে কোনো বিতর্কের সুযোগ নেই। বিশেষ করে গ্যাসের সংকটে শিল্পকারখানাকে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করছে। এরপর রয়েছে বিদ্যুৎ সমস্যা।

তিনি আরো বলেন, আমরা নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিয়ে কাজ করছি। বেজা থেকে শিল্পের জন্য সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে জমি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। বর্তমানে আমাদের সময়ের প্রায় অর্ধেকই জ্বালানি-সংক্রান্ত কাজে ব্যয় হচ্ছে। কারণ আমি বিশ্বাস করি, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও বিনিয়োগ—দুটোরই সবচেয়ে বড় পূর্বশর্ত হলো নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ।

বিদেশী বিনিয়োগের পাশাপাশি বিডা, বেজা ও বেপজার মত সরকারের বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থাগুলো দেশীয় বিনিয়োগকেও বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানান চৌধুরী আশিক।

তিনি বলেন, অন্তবর্তী সরকারের সময়ে অনেকে বিনিয়োগ করতে চাননি। তারা বলেছিল নির্বাচনের পরে করবে। কিন্তু নির্বাচনের পর শুরু হল মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ, তখন তেলের দাম বেড়ে যায়। ফলে তেলের দাম কেমন হয় না হয় সেটা বিনিয়োগকারীরা ভাবছে। সেজন্য আমরা দেশী বিনিয়োগকারীদের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছি, বন্ধ শিল্প কারখানাগুলো খোলার চেষ্টা করছি। আমরা ভাবছি, একটি কোম্পানিকে পুরো এলাকা দেয়ার পরিবর্তে একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলা যায় কিনা। একাধিক কোম্পানিকে সেখানে বিনিয়োগের সুযোগ দেয়া যায় কি না। তাহলে আরো বেশি উৎপাদনমুখী শিল্প গড়ে উঠবে।

কর্মশালায় আরো ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালক (পরিসংখ্যান বিভাগ) নূরজাহান আখতার, বিডার নির্বাহী সদস্য ও সচিব হুমায়ূন কবির ও মহাপরিচালক মুজিবুল-উল-ফেরদৌস।