বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় সিলেটে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে কিছু অঞ্চলে অপরিবর্তিত রয়েছে। গতকাল সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর চারটি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। সুরমার পানি  সিটি করপোরেশনের নিচু এলাকায় ঢুকে পড়ায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। মহানগরের উপশহর, সুবহানিঘাট, যতরপুর, মেন্দিবাগ, কাজিরবাজার, মাছিমপুর, তালতলাসহ অনেক স্থানের মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছে। নতুন করে বৃষ্টি না হলে বন্যা পরিস্থিতির আরো উন্নতি হবে বলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তারা আশা করছেন।

পাউবো সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ বলেন, ‘ভারতের চেরাপুঞ্জিতে গত ২৪ ঘণ্টায় মাত্র ৫৪ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে সিলেটে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেনি। গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুর উপজেলায় পানি অনেকটা কমেছে। তবে সিলেট সদর, কানাইঘাট ও জকিগঞ্জে পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে।’

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, সিলেটে শুক্রবার থেকে গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত বৃষ্টি হয়নি। তবে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল অব্যাহত রয়েছে। নতুন করে কোনো এলাকা প্লাবিত না হলেও কিছু অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে।

সিলেট জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, সিটি করপোরেশনের নয়টি ওয়ার্ডসহ সদর উপজেলা, কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর, কানাইঘাট, জকিগঞ্জ, বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জের ৫৯টি ইউনিয়নের ৬ লাখ ৯ হাজার ৭৩৩ জন বন্যাকবলিত হয়েছে। জেলায় ৫৫০টি আশ্রয় কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। বর্তমানে আশ্রয় কেন্দ্রে আছেন ৩ হাজার ৩৪২ জন। জেলার আটটি উপজেলায় ৭৮১টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

জেলা প্রশাসক শেখ রাসেল হাসান জানান, উজান থেকে ভাটির দিকে পানি নামতে শুরু করায় সিলেট নগর, বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জ উপজেলার নিম্নাঞ্চল নতুন করে প্লাবিত হয়েছে। তবে বৃষ্টি না হওয়ায় বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি লক্ষ করা যাচ্ছে। পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারিভাবে শুকনো ও রান্না করা খাবার, বিশুদ্ধ পানি বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।

এর আগে চারদিন ধরে ভারত থেকে পাহাড়ি ঢল নেমেছে। পাশাপাশি সিলেটে ভারি বৃষ্টিও হয়। এ সময় নদ-নদীর পানি বাড়া অব্যাহত থাকায় জেলায় বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্লাবিত হয়েছে গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ, জৈন্তাপুর, কানাইঘাট ও জকিগঞ্জ উপজেলা। মূলত জেলার প্রধান দুটি নদী সুরমা, কুশিয়ারাসহ অন্যান্য নদ-নদীর পানি উপচে একের পর এক এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ডুবে গেছে ফসলের খেত, ভেসে গেছে পুকুরের মাছ। অসংখ্য ঘরবাড়িও হয়েছে প্লাবিত। তবে গতকাল থেকে গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ, জৈন্তাপুর উপজেলাসহ কিছু এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও অন্যান্য জায়গায় অপরিবর্তিত রয়েছে।