পঞ্চগড়ে কাদিয়ানীদের সালানা জলসাকে কেন্দ্র করে জনতার বিক্ষোভ, অবরোধ, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের দায় নিচ্ছে না কেউ। স্থানীয় যারা আন্দোলোনে নেতৃত্ব দিয়েছেন তারা এখন সবাই আত্মগোপনে। গতকাল সড়কে কোনো বিক্ষোভকারীর দেখা মেলেনি। তবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারীবাহিনীর উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। মুসল্লিদের আক্রমণে কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের সদস্যদের বাড়িগুলো এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। এ ঘটনায় দুজনের মরদেহ গতকাল হস্তান্তর করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, আগে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, পরে মামলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত। 

মুসল্লিদের বিক্ষোভ, অবরোধ ও দফায় দফায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের পর শুক্রবার  রাতে পঞ্চগড়ে কাদিয়ানীদের সালানা জলসা বন্ধের ঘোষণা দেয় স্থানীয় প্রশাসন। পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক মো. জহুরুল ইসলাম এবং পুলিশ সুপার এসএম সিরাজুল হুদা কাদিয়ানীদের জলসা মাঠে গিয়ে বন্ধ করার ঘোষণা দেন। সে সঙ্গে রাতেই সালানা জলসা বন্ধের মাইকিং করে জানিয়ে দেয়া হয়। এরপর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। গতকাল সকালে সালানা জলসায় জেলার বাইরে থেকে আসা কাদিয়ানীদের কেন্দ্রীয় নেতাদের পুলিশ পাহারায় পঞ্চগড় থেকে বের করে দেয়া হয়। এদিকে কাদিয়ানীদের পক্ষে জলসা কমিটির আহ্বায়ক আহম্মেদ তফসের জানিয়েছেন ইঞ্জিনিয়ার জাহিদ হাসান (২২) নামে তাদের এক সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। তার বাড়ি নাটোরের বনপাড়ায়। নিহত জাহিদের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এর আগে শুক্রবার বিকালে আরিফুর রহমান নামে একজন যুবকের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আহত হয়েছে অর্ধশতাধিক ব্যক্তি। 

এদিকে গতকাল সকাল থেকে শহরের মোড়ে মোড়ে পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা অবস্থান নেন। শুক্রবার রাত থেকেই ১৭ প্লাটুন বিজিবির সঙ্গে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। 

কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের সালানা জলসার মিডিয়া বিভাগের সমন্বয়ক আহমেদ সুমন জানান, প্রথমে কাদিয়ানীদের বাড়িতে লুটপাট করা হয়েছে। তারপর ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে পালিয়ে যায় বিক্ষুব্ধ জনতা। এ সময় পুলিশ আহাম্মদ নগরে ছিল, কিন্তু তাদের সামনেই আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটে। বাড়ির আসবাবসহ সব পুড়ে গেছে। 

পঞ্চগড় পুলিশ সুপার এসএম সিরাজুল হুদা জানান, বর্তমানে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে। আগে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, পরে মামলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। 

পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক মো. জহুরুল ইসলাম জানান, কাদিয়ানীদের সালানা জলসা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। বর্তমানে পঞ্চগড় জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।