ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিশ্বাসযোগ্যভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা ছিল দক্ষভাবে পরিচালিত ও সত্যিকার অর্থে প্রতিযোগিতামূলক। এ নির্বাচন বাংলাদেশে গণতন্ত্রে ফেরাকে ত্বরান্বিত করবে। এটি ভবিষ্যৎ নির্বাচনের জন্য নতুন বেঞ্চমার্ক। তবে নারীদের জন্য সীমিত রাজনৈতিক সুযোগ তাদের সমান অংশগ্রহণকে বাধাগ্রস্ত করেছে।
গতকাল রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট নিয়ে এভাবেই নিজেদের প্রাথমিক মূল্যায়ন তুলে ধরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন (ইইউ-ইওএম)।
মিশন প্রধান ইভার্স ইজাবস বলেন, ‘এ নির্বাচনে আইনি কাঠামোগুলো আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গেও সংগতিপূর্ণ ছিল। নির্বাচন কমিশন স্বাধীন ও স্বচ্ছভাবে কাজ করে অংশীজনদের আস্থা বজায় রাখতে এবং নির্বাচনের সততা বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে। ২০০৮ সালের পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিশ্বাসযোগ্যভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে।’
নির্বাচন পর্যবেক্ষণে জানুয়ারির মাঝামাঝি বাংলাদেশে আসেন ৫৬ জন দীর্ঘমেয়াদি ইইউ পর্যবেক্ষক। পরে স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষকরা যুক্ত হলে তাদের মোট সংখ্যা দাঁড়ায় ২২৩ জনে। নির্বাচনের দিন পর্যবেক্ষকরা ৬৪ জেলায় ভোটের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন। তারা ভোট কেন্দ্র খোলা-বন্ধ, ভোটগ্রহণ, ব্যালট গণনা এবং ফলাফল তালিকাভুক্ত করার প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করেন বলে জানানো হয়েছে সংবাদ সম্মেলনে।
মিশন প্রধান ইভার্স ইজাবস নির্বাচনে জনআস্থা পুনর্গঠন, স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং ভোটারদের সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তার ক্ষেত্রে নাগরিক পর্যবেক্ষক, ফ্যাক্ট-চেকার এবং তরুণ ও নারী কর্মীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন।
তিনি জানান, তারা লক্ষ্য করেছেন, নির্বাচনের দিনটি ছিল সুশৃঙ্খল, উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ। পোলিং কর্মকর্তারা ভোটগ্রহণ ও গণনার কাজ দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করেন। পুরো প্রক্রিয়ার প্রতিটি স্তরে রাজনৈতিক দলগুলোর পোলিং এজেন্টদের উপস্থিতি নির্বাচনের স্বচ্ছতা বাড়িয়েছে। এছাড়া রিটার্নিং কর্মকর্তাদের স্থানীয় পর্যায়ে ফলাফলের হালনাগাদ তথ্য এবং মূলধারার গণমাধ্যমের ওপর জনগণের আস্থা বজায় রাখতে সাহায্য করেছে।
ইভার্স ইজাবস বলেন, ‘নির্বাচনে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের স্বাধীনভাবে অংশগ্রহণ সব ক্ষেত্রে নিশ্চিত করা যায়নি। এছাড়া নারীদের জন্য সীমিত রাজনৈতিক সুযোগ তাদের সমান অংশগ্রহণকে বাধাগ্রস্ত করেছে। গণ-অভ্যুত্থানে নারীরা সামনের সারিতে থাকলেও এবারের নির্বাচনে তারা প্রায় অদৃশ্য ছিলেন। নির্বাচনে নারী প্রার্থী ছিলেন মাত্র ৪ শতাংশ। ইতিবাচক পদক্ষেপের অভাব এখনো আদিবাসী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রতিনিধিত্বহীন করে রেখেছে। এছাড়া মাঝে মাঝে বিক্ষিপ্ত রাজনৈতিক সহিংসতা এবং প্রায়ই ইন্টারনেটে ছড়ানো বিভ্রান্তিকর তথ্য গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য, মানবাধিকার ও জবাবদিহিতার সঙ্গে যা সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, সেই পুরনো চর্চাগুলো পরিত্যাগ করার সময় এসেছে এখন। এখন স্বাধীন প্রতিষ্ঠান ও মানবাধিকারকে সমুন্নত রাখার মাধ্যমে নতুন পথ তৈরির সময়।’
এ সময় বলা হয়, বাংলাদেশ এখন একটি নতুন গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে প্রবেশ করছে। আমরা নবনির্বাচিত সংসদ এবং সরকারকে অনুমোদিত সংস্কারগুলো বাস্তবায়নের জন্য অন্যান্য সব রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সহায়তা নেয়ার আহ্বান জানাই।
নির্বাচন-পরবর্তী পরিবেশ পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রাখার পাশাপাশি আগামী মাসগুলোতে ভবিষ্যতের নির্বাচনের উন্নতির জন্য সুপারিশসহ একটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।









