সুরমার পানি সিলেট পয়েন্টে কমে বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গতকাল বিকাল ৩টার রেকর্ড অনুযায়ী, নদীর পানি বিপৎসীমার ৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে পানি বেড়েছে কানাইঘাট পয়েন্টে। গত সোমবার কানাইঘাটের সুরমা পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার ৬১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। গতকাল তা বেড়ে ৬৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।

এদিকে গতকাল সকাল ৬টা-৯টা পর্যন্ত সিলেটে বৃষ্টিপাত হয়েছে ৬ দশমিক ৪ মিলিমিটার। সকাল ৯টা-দুপুর ১২টা পর্যন্ত ২৩ দশমিক ২ মিলিমিটার ও দুপুর ১২টা- বেলা ৩টা পর্যন্ত ৩০ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়।

সিলেট জেলা প্রশাসনের তথ্যানুযায়ী, গতকাল বিকাল পর্যন্ত ৬ হাজার ৫৬৮ বন্যার্ত মানুষ আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান করছে। এর মধ্যে ছয় হাজারই সিলেট নগরীর বাসিন্দা।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, সিলেট পয়েন্টে সুরমার পানি কমা ছাড়া বাকি সব পয়েন্টে বেড়েছে। গত সোমবার সন্ধ্যার প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিলেট পয়েন্টে সুরমার পানি বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। সেখানে গতকাল বিকালে বিপৎসীমার ৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। তবে কানাইঘাট পয়েন্টে পানি বেড়েছে। গত সোমবার সেখানে নদীর পানি বিপৎসীমার ৬১ সেন্টিমিটার ওপর প্রবাহিত হচ্ছিল। গতকাল তা বেড়ে ৬৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।

তবে জকিগঞ্জ উপজেলায় কুশিয়ারার পানি ১৪ সেন্টিমিটার কমেছে। গতকাল বিকালের রেকর্ড অনুযায়ী, নদীর পানি বিপৎসমীর ২৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আগের একই পয়েন্টে বিপৎসীমার ৪০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। তবে ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে নদীর পানি সোমবারের তুলনায় বেড়ে বিপৎসীমার ২৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যেখানে সোমবার বিপৎসীমার ২১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর সিলেট কার্যালয়ের সূত্রমতে, গতকাল সকাল ৬টা-দুপুর ১২টা পর্যন্ত সিলেটে বৃষ্টিপাত হয়েছে ২৯ দশমিক ৬ মিলিমিটার। এর মধ্যে সকাল ৬টা-৯টা পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হয়েছে ৬ দশমিক ৪ মিলিমিটার এবং সকাল ৯টা-দুপুর ১২টা পর্যন্ত হয়েছে ২৩ দশমিক ২ মিলিমিটার। দুপুর ১২টা-বেলা ৩টা পর্যন্ত ৩০ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়। এর আগে সোমবার সকাল ৬টা-মঙ্গলবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাত হয়েছে ৫২ দশমিক ২ মিলিমিটার।

সিলেট আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ সজীব হোসাইন জানান, সিলেটে আরো বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। গতকালও দিনভর থেমে থেমে বৃষ্টি হয়েছে।

জেলা প্রশাসক শেখ রাসেল হাসান বলেন, ‘সিলেট অঞ্চলে বৃষ্টিপাত হলেও বন্যার পানি কমা অব্যাহত রয়েছে। নগরীর বন্যাকবলিত এলাকা থেকে পানি নামতে শুরু করেছে। সিলেট সদর ও দক্ষিণ সুরমার কিছু এলাকায় জলাবদ্ধতার পানির বিস্তৃতি ঘটছে। সার্বিকভাবে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। অতিবৃষ্টি বা উজানের ঢল নামলে পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে বলে সতর্ক দৃষ্টি রাখা হচ্ছে। ত্রাণ কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে।’