ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলার চান্দেরহাট বাজারসংলগ্ন খালের ওপর সেতুটি মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। সংস্কারের অভাবে সেতুটি নড়বড়ে ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সেতুর লোহার কাঠামোর সিমেন্টের ঢালাই দেয়া স্লিপারগুলোর বেশির ভাগই ভেঙে গেছে। ক্রস অ্যাঙ্গেলগুলো মরিচা ধরে সেতুটি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বর্তমানে সেতুর ওপর দিয়ে কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। এলাকাবাসী স্লিপারের নিচে বাঁশ বেঁধে সেতুর ওপর দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে কোনো মতে হেঁটে চলাচল করছে।

সেতু দিয়ে পার হওয়ার সময় শিক্ষার্থীরা দুর্ঘটনার আতঙ্কে থাকেন। এছাড়া বিপাকে পড়ছেন অটোবাইক, মোটরসাইকেল, টেম্পো, রিকশা, ভ্যানসহ অভ্যন্তরীণ রুটে চলাচলকারী বাহনের যাত্রীরা। 

স্থানীয়রা জানায়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর থেকে প্রায় দেড় যুগ আগে চান্দেরহাট বাজারসংলগ্ন এ সেতু নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে ওই সেতু দিয়েই প্রতিদিন কাঁঠালিয়া সদর, কৈখালী, বাঁশবুনিয়া, চেঁচরী রামপুর, আনইলবুনিয়া, দক্ষিণ কৈখালীসহ কয়েক গ্রামের শত শত মানুষ দুর্ঘটনার শঙ্কা মাথায় নিয়ে চলাচল করছে। 

স্থানীয় বাসিন্দা বিরেন মিস্ত্রী বলেন, সেতুটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। যেকোনো সময় এটি ভেঙে খালে পড়ে যেতে পারে। ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় গাছ দিয়ে সেতুটির মুখ আটকে দেয়া হয়েছে। দ্রুত এখানে একটি নতুন  সেতু নির্মাণ করা দরকার। 

সেতু পার হওয়ার সময় আলেয়া বেগম নামের এক পথচারী জানান, সেতুটির কারণে যাতায়াতে খুব ভোগান্তি হচ্ছে। ভ্যান, রিকশা বা অটোরিকশা গাড়ি কোনো কিছুই চলাচল করতে পারছে না। তাই বাধ্য হয়ে হেঁটে যাতায়াত করি। ভাঙাচোরা সেতু পার হতে ভয় লেগে যায়। যদি কোনো দুর্ঘটনা ঘটে যায়, তাহলে কে দায় নেবে।

কাঁঠালিয়া সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মাহমুদুল হক নাহিদ সিকদার জানান, সেতুটি দিয়ে মানুষ চলাচল করলেই দুলতে থাকে। তাই স্থানীয় ইউপি সদস্যের মাধ্যমে একটা বরাদ্দ নিয়ে অ্যাঙ্গেলগুলো ঝালাইয়ের ব্যবস্থা করে দিয়েছি। এখানে নতুন করে সেতু নির্মাণে কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

এ ব্যাপারে এলজিইডি কাঁঠালিয়া উপজেলা প্রকৌশলী সাদ জগলুল ফারুক জানান, ঝুঁকিপূর্ণ সেতুটি পুনর্নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এরই মধ্যে সেতুটি নির্মাণের জন্য চাহিদাপত্র পাঠিয়েছি।