বিভিন্ন সরকার দায়িত্ব নিয়ে নারীর প্রতি সম্মান দেখালেও পরবর্তী সময়ে নারীদের প্রতি হওয়া সহিংসতার সঠিক বিচার পান না তারা। এ বিচারহীনতার সংস্কৃতি ভাঙতে যথাযথ উদ্যোগ নিতে হবে।
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনী হলে গতকাল জাতীয় নারীশক্তির আত্মপ্রকাশ ও সাম্প্রতিককালে নারীর প্রতি ক্রমবর্ধমান সহিংসতার প্রতিকার এবং ধর্ষণের বিচার বিষয়ক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
এ সময় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সহযোগী সংগঠন ‘জাতীয় নারীশক্তি’র আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। নতুন এই প্লাটফর্মের আহ্বায়ক মনিরা শারমিন এবং সদস্য সচিব হিসেবে ডা. মাহমুদা আলম মিতু ও মুখ্য সংগঠক হিসেবে নুসরাত তাবাসসুমের নাম ঘোষণা করা হয়।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধসহ বিভিন্ন গণ-আন্দোলনে নারীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা উল্লেখ করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘অনেক ক্ষেত্রেই আন্দোলনের সময় সহিংসতার প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছেন নারীরাই। ১৫ জুলাইয়েও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ছাত্রীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছিল, এ আন্দোলনের অগ্রভাগে নারী শিক্ষার্থীরা এগিয়ে এসেছিলেন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নারীদের ব্যাপক অংশগ্রহণ থাকলেও পরবর্তী সময়ে রাজনীতিতে তাদের উপস্থিতি তুলনামূলক কম দেখা গেছে। এর অন্যতম কারণ সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতার পাশাপাশি অনলাইন সাইবার বুলিং। অনেক নারী রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার ও মানসিক হয়রানির শিকার হন।’
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থানে নারীদের বড় অবদান ছিল। অনেক নারী পরবর্তীতে আড়ালে চলে গেছেন। তবে যারা কাজ করেন তারা কখনো হারিয়ে যান না।’ ধর্ষণের ঘটনায় ভুক্তভোগী নারীর পরিচয় বেশি প্রচার না করে বরং অপরাধীর পরিচয় সামনে আনার আহ্বান জানান তিনি।
জামায়াতের কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগের মানবসম্পদ, আইন ও মানবাধিকার বিষয়ক সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট সাবিকুন্নাহার মুন্নি বলেন, ‘তরুণদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হয়েছে।’ নারীদের জন্য নতুন প্লাটফর্ম গঠনের উদ্যোগকে তিনি স্বাগত জানান।
ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা বলেন, ‘সমাজে নারী শব্দটি অনেক সময় কাউকে ছোট করার জন্য ব্যবহার হয়, যা অত্যন্ত অপমানজনক। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে আঘাত করতে নারী সহকর্মীদেরও অনেক সময় টুল হিসেবে ব্যবহার করা হয়।’










