আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় চলতি বোরো মৌসুমে বগুড়ায় ধানের ফলন ভালো হয়েছে। এতে জেলাটিতে খাদ্যশস্যের উৎপাদন সরকারি লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছেন কৃষি কর্মকর্তারা। তারা জানিয়েছেন, করোনার কারণে শ্রমিক সংকটের আশঙ্কা থাকলেও এখন পর্যন্ত তেমনটি হয়নি। তাই পুরোদমে ধান সংগ্রহের কাজ চলছে। এবার বোরো মৌসুমে বগুড়ায় ১৪ লাখ টন ধান পাওয়া যাবে, যা থেকে চাল উৎপাদন হবে প্রায় আট লাখ টন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, বগুড়ায় এবার ১ লাখ ৮৮ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নেয়া হয়। এর বিপরীতে আবাদ হয় ১ লাখ ৮৮ হাজার ৬১৫ হেক্টর জমিতে। আর চাল হিসেবে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ৭ লাখ ৭৫ হাজার টন।
আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার বোরোর বাম্পার ফলন হয়েছে। গত এপ্রিলের শেষ দিকে জেলায় বোরো ধান কাটা শুরু হয়। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ধান সংগ্রহের জন্য প্রচারণা চালানো হচ্ছে। অধিকাংশ এলাকায় শ্রমিকরা মাস্কসহ অন্য সুরক্ষা সামগ্রী নিয়ে ধান কাটছেন।
চাষীরা বলছেন, বছরের এ সময় ঝড়বৃষ্টি হয়। এতে ধান ঝরে যাওয়ার ঝুঁকি আছে। তাই ধান পাকতে শুরু করায় দেরি না করে কাটা শুরু করা হয়েছে। এখনো হাটে ধান তোলা হয়নি। গত মৌসুমের শুরুতে ধান আর্দ্রতা ভেদে মণপ্রতি ৭০০-৮০০ টাকা দামে কেনাবেচা হয়েছিল। এবারো প্রায় একই দামে কেনাবেচা হচ্ছে। তবে মণপ্রতি ৯০০ টাকা দাম পাওয়া গেলে ভালো হতো।
কৃষি কর্মকর্তারা জানান, সব উপজেলায় পুরোদমে ধান কাটার কাজ চলছে। এ পর্যন্ত প্রায় ৪০ হাজার হেক্টর জমির ধান কাটা হয়েছে, যা মোট জমির ২১ শতাংশ। তাতে যে ফলন পাওয়া গেছে, সে হিসেবে বগুড়ায় কমপক্ষে ১৪ লাখ টন ধান পাওয়া যাবে। এলাকা ভেদে প্রতি বিঘা জমিতে ২২-২৫ মণ করে ধান পাওয়া গেছে।
তারা জানান, সময়মতো কাটতে না পারলে ধান কম পাওয়ার আশঙ্কা আছে। করোনার কারণে শ্রমিক সংকট দেখা দেয়ার আশঙ্কা ছিল। বগুড়ার কৃষকদের ধান কাটেন সাধারণত উত্তরবঙ্গের শ্রমিকরা। তারা আসতে শুরু করেছেন। এ কারণে এখন পর্যন্ত কোথাও শ্রমিক সংকট হয়নি। তাই সময়মতো ধান ঘরে তোলা নিয়ে আপাতত সংশয় নেই।
সোনাতলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাসুদ আহমেদ জানান, কৃষক খুব সহজেই উন্নত বীজ ও রাসায়নিক সার পেয়েছেন। কৃষি বিভাগ সার্বক্ষণিক কৃষকের পাশে থেকে পরামর্শ দিয়ে আসছে। আবহাওয়াও অনুকূলে আছে। পর্যাপ্ত রোদ পাওয়া যাচ্ছে। এবার ধানের উৎপাদন বেশ ভালো। প্রতি বিঘা জমিতে ২২-২৫ মণ করে ধান পাওয়া গেছে।
তিনি জানান, সোনাতলা উপজেলায় ১০ হাজার ৫৮৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ হয়েছে। এ উপজেলায় এপ্রিলের শেষ থেকে ধান কাটা শুরু হয়েছে। কিছুদিনের মধ্যে ধান কাটা শেষ হয়ে যাবে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবুল কাশেম আযাদ জানান, বগুড়ায় গত মৌসুমে বোরোর ভালো ফলন পাওয়া গিয়েছিল। এবারো আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ভালো ফলন পাওয়া যাবে। জেলায় পুরোদমে বোরো ধান কাটার কাজ চলছে।
তিনি জানান, এবার বেশির ভাগ এলাকায় উচ্চফলনশীল জাতের বোরো ধান আবাদ হয়েছে। চলতি বছর বোরোর চাল আকারে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছিল প্রায় ৭ লাখ ৭৫ হাজার টন। আশা করা হচ্ছে এবার আট লাখ টন চাল পাওয়া যাবে।










