খুলনায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী মো. আজমুল হোসেন হত্যা মামলায় শেখ আসিফ হোসেন (২৮) নামে আরো এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে এসআরবি-৬। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাত আড়াইটার দিকে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার ভাটিয়াপাড়া গোলচত্বর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি খুলনার পাইকগাছা উপজেলার সনাতনকাটি এলাকার শেখ মিরাজ হোসেনের ছেলে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বে) এসআরবি-৬-এর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান হয়, এ নিয়ে গত দুদিনে আজমুল হত্যা মামলায় চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এরমধ্যে মো. হাসনাত হাবিব রিফাত নামে এক আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।

এসআরবি’র বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এসআরবি-৬-এর স্পেশাল কোম্পানি ও ভাটিয়াপাড়া ক্যাম্পের যৌথ দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গোপালগঞ্জের ভাটিয়াপাড়া গোলচত্বর এলাকায় অভিযান চালিয়ে আসিফকে গ্রেফতার করে। পরে তাকে হরিণটানা থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ নিয়ে আজমুল হত্যা মামলায় চারজনকে গ্রেফতার করা হলো। অন্য তিনজন হলেন-খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এফএমআরটি বিভাগের ১৬ ব্যাচের শিক্ষার্থী রিফাত, অ্যাগ্রোটেকনোলজি বিভাগের ১৭ ব্যাচের শিক্ষার্থী প্রতাপ সরকার এবং খানজাহান আলী হলের গেটের সামনে রুবেল জুস কর্নারের মালিক তারেক হাসান রুবেল।

তিনজনকে পিরোজপুর, খুলনা ও বরিশালে পৃথক অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতার চারজনের মধ্যে রিফাত মঙ্গলবার খুলনা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট-৩ আদালতে বিচারক মো. ইব্রাহিম খলিলের সামনে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।

হরিণটানা থানার ওসি মো. ইকবাল হোসেন বাসসকে জানান, জবানবন্দিতে রিফাত হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে জড়িত আরো ১২ থেকে ১৩ জনের নাম জানিয়েছেন তিনি। তবে তদন্তের স্বার্থে তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হচ্ছে না। রিফাতের দেয়া তথ্য যাচাই করে অন্য আসামিদের গ্রেফতার অভিযান চলছে।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ আজমুল হোসেনকে মারধরের পর একটি ভবনের ছাদ থেকে ফেলে হত্যার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় হরিণটানা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।