ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের উদ্যোগে গতকাল শহীদ মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী কনফারেন্স হলে ইতিহাসবিদ অধ্যাপক সুগত বসু রচিত ‘এশিয়া আফটার ইউরোপ: ইমাজিনিং আ কন্টিনেন্ট ইন দ্য লং টোয়েন্টিথ সেঞ্চুরি’ গ্রন্থের ওপর আলোচনা ও প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। ইতিহাস বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. আবু মো. দেলোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই অনুষ্ঠানের মুখ্য আলোচক ছিলেন গ্রন্থলেখক হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গার্ডিনার প্রফেসর অব ওশেনিক হিস্ট্রি অ্যান্ড অ্যাফেয়ার্সের অধ্যাপক ড. সুগত বসু। 

ইউরোপীয় সভ্যতা-সংস্কৃতির সঙ্গে ভারতবর্ষ তথা বাংলার পরিচয়ের বিপরীতে ২০ শতকের প্রথম দিক থেকে এশীয় দেশগুলো নিজেদের সভ্যতা ও সংস্কৃতির আদান-প্রদান এবং পারস্পরিক যোগাযোগের মাধ্যমে ‘এশিয়ানিজম’ বা এশীয়বাদ চেতনা গড়ে তুলেছিল। এ প্রক্রিয়ায় ২০ শতকের বিশ্ব রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোর পরিবর্তন এবং সাংস্কৃতিক আদান-প্রদানের নানা মাত্রা এ গ্রন্থে তুলে ধরা হয়েছে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধোত্তর বি-উপনিবেশ প্রক্রিয়া ও ভারতীয়দের স্বাধীনতা সংগ্রামে এশীয় দেশগুলোর সঙ্গে ভারতীয় জনগোষ্ঠীর ভাবনার আদান-প্রদানের পাশাপাশি নানা রাজনৈতিক উদ্যোগের ইতিহাস তুলে ধরেন অধ্যাপক সুগত বসু। 

‘এশিয়ানিজম’ তথা এশীয়বাদ নামান্তরে মানবতার জন্য ঐক্যবদ্ধ হওয়া। গ্রন্থলেখক তার আলোচনায় ঔপনিবেশিক কাঠামোমুক্ত একটি স্বাধীন মানবতাবাদী জাতিরাষ্ট্র কাঠামো গড়ে তোলার মাধ্যমে এশীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের নানা মাত্রা তুলে ধরেন। ১৯৪৭-পরবর্তী বিশ্ব রাজনৈতিক পাটাতনে এশীয় ঐক্যের ভাবনার পুনর্জাগরণ দেখা যায় ১৯৬০-এর দশকে, যার প্রতিফলন নন্দলাল বসুর নানা চিত্রকর্ম। লেখক সুগত বসু বক্তব্যের শেষে শ্রোতামণ্ডলীর উত্থাপিত প্রশ্নাবলির উত্তর দেন। 

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইতিহাস বিভাগ ও অন্য বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। আরো উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু চেয়ার অধ্যাপক ফখরুল আলম, জর্জ টাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক তারেক ওমর আলী, রাটগার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের টিচিং ফেলো লাবিবা আলী। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন অধ্যাপক আশা ইসলাম নাঈম। 

সভাপতির ভাষণের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে। সভাপতি অনুষ্ঠানের আকর্ষণ অধ্যাপক সুগত বসুকে ধন্যবাদ জানান।