কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় জর্ডান প্রবাসী বিএনপি কর্মী সোহেল রানা (৪০)-কে ৫০ হাজার টাকার চুক্তিতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। আদালতে দেয়া কয়েকজন আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এ সংক্রান্ত তথ্য ওঠে এসেছে।
ভেড়ামারা থানার সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. দেলোয়ার হোসেন গতকাল রাতে থানার হলরুমে সাংবাদিকদের এ বিষয়ে সর্বশেষ তথ্য জানান।
পুলিশ জানায়, ২০২৫ সালের ২৫ নভেম্বর ধরমপুর ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর বিলের ধানক্ষেতে সোহেল রানার বিকৃত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাকে বিবস্ত্র অবস্থায়, মুখমণ্ডল পুড়িয়ে এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্নসহ পাওয়া যায়। পরে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলার তদন্ত শুরু করে পুলিশ।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা হলেন সুজন খলিফা ওরফে সুজন কানা, লিমন, মহিন উদ্দিন, জাহাবুল ইসলাম জাবুল ও মো. শাওন।
তাদের মধ্যে মহিন, জাবুল ও শাওন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তদন্তে হত্যাকাণ্ডে আরো কয়েকজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে, যাদের মধ্যে তুষার ও খোকন এখনো পলাতক।
তদন্ত ও জবানবন্দির তথ্যমতে, হত্যাকাণ্ডের আগের দিন কানা সুজনের বাড়িতে একটি বৈঠক হয়। সেখানে তুষার, জাবুল, শাওন ও লিমন উপস্থিত ছিলেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী মহিনকে অগ্রিম ২৫ হাজার টাকা দেয়া হয় এবং হত্যার পর বাকি টাকা দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
২৫ নভেম্বর সন্ধ্যায় সোহেল রানাকে সাতবাড়িয়া বাজার থেকে রামচন্দ্রপুর বিল এলাকার নির্জন স্থানে নিয়ে যান লিমন ও মহিন। সেখানে আগে থেকেই তুষার ও জাবুলসহ কয়েকজন অবস্থান করছিলেন।
পরবর্তীতে ধারালো অস্ত্র ও লোহার রড দিয়ে সোহেল রানাকে আঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হত্যা করা হয় বলে স্বীকারোক্তিতে ওঠে এসেছে। এরপর মরদেহ বিকৃত করার ঘটনাও ঘটে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেলোয়ার হোসেন জানান, তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য ও আসামিদের স্বীকারোক্তির মধ্যে মিল পাওয়া গেছে। তবে মামলার প্রধান অভিযুক্ত সুজন কানা জবানবন্দি দিতে চাইলেও পরে তা থেকে সরে আসেন। হত্যাকাণ্ডের পেছনে আরো কিছু বিষয় তদন্তাধীন রয়েছে বলেও জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা।










