বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে উত্তেজনা বেড়েই চলেছে। জিরো পয়েন্টসংলগ্ন মিয়ানমার অংশে চলছে বিকট শব্দে গোলাগুলি। এর প্রভাবে নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম ইউনিয়নের সীমান্তঘেঁষা লোকালয়ের মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। তাই সীমান্তের ১৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি অনেক কমে গিয়েছে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস।
একাধিক সূত্রে জানা গিয়েছে, মিয়ানমারের আরাকান আর্মির সঙ্গে তিন সপ্তাহ ধরে সে দেশের সেনাবাহিনী ও বিজিপির (বর্ডার গার্ড অব পুলিশ) তুমুল লড়াই চলছে। একটানা গোলাগুলি, হেলিকপ্টার থেকে গুলিবর্ষণ, মর্টার শেল নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটছে। ফলে বাংলাদেশের নাইক্ষ্যংছড়ির সীমান্তঘেঁষা লোকালয়গুলোয় বেড়েছে আতঙ্ক। কেননা ৩ সেপ্টেম্বর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর যুদ্ধবিমান থেকে ছোড়া দুটি গোলা সীমান্ত পিলার ৪০ বরাবর বাংলাদেশের ১২০ মিটার ভেতরে এসে পড়ে। এর আগে গত ২৮ আগস্ট তুমব্রু উত্তরপাড়া জামে মসজিদের পাশে ওড়ে এসে পড়ে মর্টার শেল। এসব ঘটনায় ঢাকায় নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে কড়া প্রতিবাদও জানায় বাংলাদেশ।
এরপর দুদিন শান্ত থাকার পর সোমবার ভোর থেকে মিয়ানমারে ফের প্রচণ্ড গোলাগুলির শব্দ পাওয়া যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। ফলে ঘুমধুম ইউনিয়নের সীমান্তঘেঁষা তুমব্রু, তুমব্রু হেডম্যানপাড়া, রেজু আমতলী, ঘুমধুম, আশারতলীপাড়ার মানুষ চরম আতঙ্কে দিনাতিপাত করছেন। তুমব্রু হেডম্যানপাড়ার এক নারী জানান, তাদের গ্রামের কাছেই জিরো পয়েন্টের তুমব্রু খাল। বর্ষাকালে সেই খালের পানি বেড়ে তাদের পাড়ার কিনারা পর্যন্ত উঠে যায়। খালটির ওপারেই মিয়ানমারের নাম না জানা একাধিক স্থানে সে দেশের সেনাবাহিনী ও পুলিশকে সশস্ত্র অবস্থায় পাহারা দিতে ও গুলি ছুড়তে দেখা যায়। দিনে কোনোমতে থাকলেও রাত নামলে শুরু হয় চরম আতঙ্ক। যদিও সীমান্তে বিজিবির পাহারা ও টহল জোরদার করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার মো. আনোয়ার বণিক বার্তাকে বলেন, এলাকার বেশির ভাগ বাড়ির শিশুরা আতঙ্কে বিদ্যালয়ে যেতে ভয় পাচ্ছে।
নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ত্রিরতন চাকমা বণিক বার্তাকে বলেন, ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে এসএসসি পরীক্ষা শুরু হচ্ছে। ঘুমধুম উচ্চ বিদ্যালয়ে একটি এসএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র রয়েছে। কিন্তু সীমান্তে এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে আতঙ্কগ্রস্ত এলাকার শিক্ষার্থীরা স্বাভাবিকভাবে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে কিনা তা নিয়ে শঙ্কা থেকে যায়। এদিকে সীমান্ত এলাকায় উপজেলার অন্তত ১৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ভাজাবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি সীমান্তের সবচেয়ে কাছাকাছি। এসব বিদ্যালয়ে গত তিন সপ্তাহে শিক্ষার্থীর উপস্থিতির হার ৩০ শতাংশে নেমে এসেছে।










