আমানত সংগ্রহ, ঋণ বিতরণ ও আদায় সর্বোপরি ঋণপত্র (এলসি) খোলাই ব্যাংকের মৌলিক কাজ। যদিও এ কাজগুলো কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে লুণ্ঠনের শিকার বেসিক ব্যাংকের। বিশ্বের কোনো ব্যাংকই এখন বেসিক ব্যাংকের এলসি খুলতে রাজি হচ্ছে না। ব্যাংকটির সঙ্গে লেনদেন আছে—এমন গ্রাহকদের সন্দেহের চোখে দেখে দেশের অন্য ব্যাংকগুলোও। এজন্য ভালো গ্রাহকরা বেসিক ব্যাংক থেকে বিদায় নিচ্ছেন।
ব্যাংকের মৌলিক কাজ না থাকায় মাস শেষে কর্মীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ ও লোকসানের হিসাব কষাতেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে ব্যাংকটির কর্মকাণ্ড। কোনো উদ্যোগেই কমছে না ব্যাংকটির খেলাপি ঋণও। প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকার খেলাপি ঋণ নিয়ে ধুঁকছে ব্যাংকটি। টানা ছয় বছর ধরে ৩ হাজার ১৫ কোটি টাকা নিট লোকসান দেয়া বেসিক ব্যাংক চলতি বছরও বড় অংকের লোকসান গুনতে যাচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, লুণ্ঠনের শিকার বেসিক ব্যাংক সংস্কারে সরকারের গৃহীত উদ্যোগ গতানুগতিক। ব্যাংকটিকে মূলধন পুনর্ভরণ বাবদ এরই মধ্যে সরকার ৩ হাজার ৩৯০ কোটি টাকা দিয়েছে। এ পরিমাণ টাকা দিয়ে দেশের অন্তত আটটি নতুন ব্যাংকের লাইসেন্স পাওয়া যেত। কিন্তু এ টাকাও শেষ হয়ে গেছে বেসিক ব্যাংকের। এ অবস্থায় বেসিক ব্যাংকের বিলুপ্তি বা অন্য ব্যাংকের সঙ্গে একীভূতকরণেই সমাধান দেখছেন তারা।
তবে বিলুপ্তি বা একীভূতকরণ নয়, বরং বেসিক ব্যাংকের খেলাপি ঋণ অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির কাছে বিক্রির পক্ষে মত আলাউদ্দিন এ মাজিদের। নজিরবিহীন লুটপাটের পর ব্যাংকটিকে টেনে তুলতে ২০১৪ সালে তাকে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দিয়েছিল সরকার। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, বেসিক ব্যাংকের বর্তমান অবস্থার দায়ভার সরকারের। এজন্য সরকারকেই ব্যাংকটিকে টেনে তুলতে হবে। গতানুগতিক পদক্ষেপে বেসিক ব্যাংককে ঠিক করা যাবে না। সরকার অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি গঠন করে তার মাধ্যমে ব্যাংকের খেলাপি ঋণগুলো কিনে নিক। অন্তত একটি সূচক ভালো হলে বেসিক ব্যাংক বিপর্যয় কাটাতে পারবে।
২০১০ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল হাই বাচ্চুর নেতৃত্বে লুটপাটের শিকার হয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত বেসিক ব্যাংক। তারপর থেকে কোনোভাবেই বিপর্যয় সামাল দিতে পারছে না ব্যাংকটি। বিতরণকৃত ঋণের ৬০ শতাংশ তথা প্রায়










