ভিকারুননিসা
নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণীর ছাত্রী
অরিত্রী অধিকারীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেয়ার অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির দুই শিক্ষিকা নাজনীন
ফেরদৌস ও জিনাত আক্তারের
বিরুদ্ধে করা মামলার রায়
চতুর্থ দফায় পিছিয়েছে। আগামী
৩ জুন রায়ের ঘোষণার
নতুর তারিখ ধার্য করেছেন আদালত।
ঢাকার
অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ-১২ এর
বিচারক আব্দুল্লাহ আল মামুনের আদালতে
আজ মঙ্গলবার (৯ এপ্রিল) মামলাটির
রায় ঘোষণার জন্য দিন ধার্য
ছিল। তবে এদিন রায়
প্রস্তুত না হওয়ায় আদালত
নতুন করে তারিখ ঠিক
করেছেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রাহিমুল করিম আকন্দ এ
তথ্য জানিয়েছেন।
এর
গত ২৭ নভেম্বর রাষ্ট্রপক্ষ
ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত রায়ের
জন্য ২১ জানুয়ারি দিন
ধার্য করেন। তবে রায় প্রস্তুত
না হওয়ায় তা পিছিয়ে আদালত
৮ ফেব্রুয়ারি নতুন তারিখ দেন।
কিন্তু ওইদিনও রায় প্রস্তুত না
হওয়ায় তা পিছিয়ে ৩
মার্চ ধার্য করা হয়। একই
কারণে তা পিছিয়ে ৯
এপ্রিল রায় ঘোষণার জন্য
দিন ধার্য করেছিলেন আদালত।
বার
বার রায় পেছানোয় হতাশা
ও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল। সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘ঈদের
ছুটির আবহেও বাসা থেকে রায়ের
জন্য এলাম। কিন্তু রায় হল না।’
এদিন
অবশ্য বাদীপক্ষের কাউকেই আদালতে দেখা যায়নি। তবে
জামিনে থাকা দুই আসামি
ভিকারুননিসার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌস এবং বেইলি রোডের
শাখা প্রধান জিনাত আক্তার আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায়ে দোষী সাব্যস্ত
হলে দণ্ডবিধির ৩০৬ ধারায় তাদের
সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ড
হতে পারে। পাশাপাশি হতে পারে অর্থদণ্ডও।
শান্তিনগরের
বাসায় গলায় ফাঁস লাগিয়ে
২০১৮ সালে ৩ ডিসেম্বর
আত্মহত্যা করে অরিত্রী অধিকারী
(১৫)। তার আগের
দিন পরীক্ষায় নকল করার অভিযোগে
তাকে পরীক্ষা হল থেকে বের
করে দিয়েছিল স্কুল কর্তৃপক্ষ।
এ
ঘটনায় অরিত্রীর বাবা দিলীপ অধিকারী
আত্মহননে প্ররোচনার অভিযোগ এনে মামলা করেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০১৮
সালের ৩ ডিসেম্বর পরীক্ষা
চলাকালে অরিত্রীর কাছে মোবাইল ফোন
পান শিক্ষক। মোবাইল ফোনে নকল করেছে
এমন অভিযোগে অরিত্রীর মা-বাবাকে নিয়ে
স্কুলে যেতে বলা হয়।
দিলীপ অধিকারী তার স্ত্রী ও
মেয়েকে নিয়ে স্কুলে গেলে
ভাইস প্রিন্সিপাল তাদের অপমান করে কক্ষ থেকে
বের হয়ে যেতে বলেন।
অধ্যক্ষের কক্ষে গেলে তিনিও একই
রকম আচরণ করেন। এ
সময় অরিত্রী দ্রুত অধ্যক্ষের কক্ষ থেকে বের
হয়ে যায়। পরে শান্তিনগরে
বাসায় গিয়ে তিনি দেখেন,
অরিত্রী তার কক্ষে সিলিং
ফ্যানের সঙ্গে ওড়নায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায়
ঝুলছে। অরিত্রী অধিকারীর আত্মহত্যার ঘটনায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও স্কুল কর্তৃপক্ষ
তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্ত
কমিটি প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ায় স্কুলের অধ্যক্ষসহ তিন শিক্ষকেকে বরখাস্ত
করা হয়।
২০১৯
সালের ২০ মার্চ মামলার
তদন্ত কর্মকর্তা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক কাজী কামরুল ইসলাম
ওই দুই আসামির বিরুদ্ধে
আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় শ্রেণিশিক্ষিক
হাসনা হেনাকে অব্যাহতি দেয়ার আবেদন করা হয়।










