দেশের প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননকেন্দ্র হালদা নদীতে রুই, কাতলা, মৃগেল ও কালবাউশ প্রজাতির মা মাছ নমুনা ডিম ছেড়েছে। এতে পূর্ণমাত্রায় ডিম ছাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

ডিম ছাড়ার সম্ভাবনা থাকায় বুধবার রাত থেকেই ডিম সংগ্রহকারীরা নৌকা ও জাল নিয়ে নদীতে অবস্থান নেন। অনুকূল পরিবেশ অব্যাহত থাকলে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর ভাটার জো’তে রাত সাড়ে ৭টা থেকে সাড়ে ৮টার মধ্যে মা মাছ পুরোদমে ডিম ছাড়তে পারে বলে জানান হালদা গবেষক ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক মনজুরুল কিবরিয়া।

তিনি জানান, নদীর পরিবেশ ডিম ছাড়ার অনুকূলে রয়েছে এবং কয়েকটি স্থানে এরইমধ্যে নমুনা ডিম পাওয়া গেছে। বর্তমানে পানির ঘোলাটে মাত্রা (টারবিডিটি) ১০০ থেকে ১৫০ এর মধ্যে রয়েছে। এটি ৬০০ থেকে ৭০০ হলে মা মাছ পুরোদমে ডিম ছাড়বে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে জোয়ারের সময় নদীর বিভিন্ন অংশে বিচ্ছিন্নভাবে ডিম ছাড়তে দেখা গেছে। হাটহাজারীর গড়দুয়ারা ইউনিয়নের নয়াহাট, রাউজানের পশ্চিম গুজরা আজিমের ঘাট ও নাপিতের ঘাটের কাটাখালী এলাকায় ডিম সংগ্রহকারীরা ১০ থেকে ১৫টি করে নমুনা ডিম পেয়েছেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বজ্রসহ ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢল হলে হালদায় ব্যাপকহারে ডিম ছাড়ে মা মাছ। এ কারণে আবহাওয়ার ওপরই এখন নির্ভর করছে মূল প্রজননের সময়।

এদিকে প্রজনন মৌসুম শুরুর পর থেকেই নদীতে মা মাছের আনাগোনা বেড়েছে। দুই উপজেলার চারটি সরকারি হ্যাচারি ও শতাধিক মাটির কুয়ায় রেণু পোনা ফোটানোর জন্য প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। প্রতি বছর হালদার দুই তীরে ৭০০ থেকে ৮০০ জন সংগ্রহকারী নিষিক্ত ডিম আহরণের অপেক্ষায় থাকেন।