ঘূর্ণিঝড়
মোখা মোকাবেলায় বরিশাল বিভাগের ছয় জেলায় ৩
হাজার ১০১টি আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়া ৩৫টি মুজিব কেল্লাও প্রস্তুত করা হয়েছে। এদিকে মোখার প্রভাবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে গতকাল সকাল থেকে বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লা রুটের
যাত্রীবাহীসহ সব ধরনের নৌযান
চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।
বিআইডব্লিউটিএর বরিশাল নৌ-বন্দর কর্মকর্তা (যুগ্ম পরিচালক) মো. আব্দুর রাজ্জাক জানান, অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা রোধে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত এ আদেশ বহাল থাকবে। বিআইডব্লিউটিএর আদেশের ফলে গতকাল সকাল ৬টা থেকে বরিশালসহ গোটা দক্ষিণাঞ্চলে নৌযান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
বন্দর কর্মকর্তা জানান, বরিশাল নৌবন্দর থেকে অভ্যন্তরীণ ১১ রুটে যাত্রীবাহী নৌযান চলাচল করে। দূরপাল্লার একমাত্র রুট ঢাকা-বরিশাল নৌরুট। এছাড়া নৌপথে পণ্যবাহী নৌযান চলাচলও বন্ধ হয়ে গেছে।
গতকাল দুপুরে বরিশাল নদীবন্দরে গিয়ে দেখা গেছে যাত্রীদের দুর্ভোগের চিত্র। জাজিরা থেকে সড়ক পথে বরিশাল লঞ্চ ঘাটে আসা মাজেদা (৬০) তার বোনকে নিয়ে মেহেন্দিগঞ্জের লঞ্চ না পেয়ে ঘাটেই অবস্থান করছিলেন। তিনি বলেন, ‘লঞ্চ বন্ধের বিষয় আমরা জানি না। এখন ভিন্ন উপায়ে গন্তব্যে যাওয়ার চেষ্টা করছি। না হলে ঘাটেই রাত পার করতে হবে।’
আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, বরিশালে গতকাল সকাল থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ৪ নম্বর সংকেত বলবৎ ছিল। প্রায় দুই সপ্তাহের খরতাপের অবসান ঘটে গতকাল সকাল থেকে বরিশালে মেঘলা আবহাওয়া বিরাজ করে।
এদিকে গতকাল বিকাল ৪টায় বরিশাল সার্কিট হাউজে বরিশাল বিভাগের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতির বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার মো. আমিন উল আহসান জানান, ঘূর্ণিঝড় মোখা মোকাবেলায় বরিশাল বিভাগে ৩ হাজার ১০১টি আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এর মধ্যে বরিশালে ৫৪১, ভোলা ৭৪৬, পটুয়াখালী ৭০৩, ঝালকাঠি ৬২, বরগুনা ৬৪২ ও পিরোজপুরে ৪০৭ আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। এসব আশ্রয় কেন্দ্রে ১ লাখ ৬৪ হাজার মানুষ আশ্রয় নিতে পারবে। এসব মানুষের জন্য শুকনো খাবারসহ সব নগদ অর্থের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়া ছয় জেলার প্রশাসন ঘূর্ণিঝড় মোখা মোকাবেলায় দিকনির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছেন বলে জানান তিনি। সব জেলা প্রশাসনের ত্রাণ তহবিলে চাল ও টাকা মজুদ রয়েছে।
সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সব আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখার পাশাপাশি পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা রাখা হবে। পর্যাপ্ত শুকনো খাবারের পাশাপাশি পানি বিশুদ্ধকরণ ওষুধ, মোমবাতি, দিয়াশলাই, খাবার স্যালাইন ও প্রাথমিক চিকিৎসার প্রয়োজনীয় ওষুধের ব্যবস্থা রাখা হবে।
সভায় ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি (সিপিপি) বরিশালের আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. শাহাবুদ্দিন মিয়া বলেন, ‘বরিশাল বিভাগে আমাদের ৩২ হাজার ৫২০ জন স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রয়েছেন। যারা এরই মধ্যে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে কার্যক্রম শুরু করেছেন।’
সভায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার আহসান হাবিব, বরিশাল বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি এসএম আক্তারুজ্জামান, বরিশালের জেলা প্রশাসক জাহাঙ্গীর হোসেন, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার বিএমপি মো. সাইফুল ইসলাম, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স বরিশাল বিভাগের উপপরিচালক মো. মিজানুর রহমান, জেলা পুলিশ সুপার ওয়াহিদুল ইসলাম প্রমুখ।










