ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকায় ব্যাটারিচালিত তিন চাকার স্বল্পগতির রিকশা (ই-রিকশা) চলাচলে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, যানজট হ্রাস এবং নিরাপদ নগর পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আগামীকাল ৩ নভেম্বর থেকে প্রতিটি ১০০ টাকা মূল্যে আবেদন ফরম বিতরণ করা হবে। নগর ভবন ও ডিএসসিসির সব আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে ফরম সংগ্রহ করা যাবে।

সোমবার (২ নভেম্বর) নগর ভবনে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম এসব তথ্য জানান।

ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, ই-রিকশা চলাচলে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং নগরবাসীর নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতেই আমরা নতুন বিধিমালা অনুযায়ী এ কার্যক্রম হাতে নিয়েছি। তবে শুধু ফরম সংগ্রহ করলেই নিবন্ধন পাওয়া যাবে না। তিনি বলেন, নির্ধারিত শর্ত পূরণ, বুয়েটের কারিগরি মানদণ্ড অনুসরণ এবং প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে কেবল যোগ্য বাহনগুলোকেই সনদ দেওয়া হবে। পর্যায়ক্রমে সব ই-রিকশাকে নিয়মের আওতায় এনে সড়কে অননুমোদিত ও অনুপযুক্ত যানবাহনের সংখ্যা কমিয়ে আনাই আমাদের মূল লক্ষ্য।

নিবন্ধনের আবেদনকারীকে অবশ্যই বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে। নির্ধারিত ফি জমাদান সাপেক্ষে আবেদনপত্রের সঙ্গে যেসব প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হবে- জাতীয় পরিচয়পত্রের (NID) সত্যায়িত অনুলিপি, সদ্য তোলা দুই কপি পাসপোর্ট আকারের ছবি, ফি জমার মূল রসিদ, নির্ধারিত ফরমে ফিটনেস সার্টিফিকেট।

আবেদন ও কাগজপত্র যাচাইয়ের পাশাপাশি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) নির্ধারিত প্রযুক্তিগত মানদণ্ড ও নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী ই-রিকশার উপযুক্ততা পরীক্ষা এবং কারিগরি ছাড়পত্র গ্রহণ বাধ্যতামূলক। একজন ব্যক্তি তার একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের (NID) বিপরীতে সর্বোচ্চ পাঁচটি আবেদন ফরম সংগ্রহ ও ই-রিকশার নিবন্ধন গ্রহণ করতে পারবেন। ফরম সংগ্রহ বা জমা দিলেই নিবন্ধন নিশ্চিত হবে না; সব মানদণ্ডে উত্তীর্ণ বাহনকেই সনদ দেয়া হবে।

ডিএসসিসি এলাকাকে মোট চারটি জোনে ভাগ করে রুট নির্ধারণ ও ই-রিকশার সংখ্যা নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা রয়েছে। ট্রাফিক পুলিশের সাথে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে এই জোনভিত্তিক ব্যবস্থাপনা কার্যকর করা হবে। নতুন এ বিধিমালার সঠিক বাস্তবায়নের মাধ্যমে ঢাকা দক্ষিণ সিটি এলাকায় পরিচ্ছন্ন, সুশৃঙ্খল ও জনবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে। সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ এ কার্যক্রমে নগরবাসীসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সার্বিক সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছে।