নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নের পার্শ্ববর্তী বঙ্গোপসাগরে ঝড়ের কবলে পড়ে ১৬ জেলে নিয়ে মাছ ধরার ট্রলার ডুবে গিয়েছে। এ ঘটনায় দুই জেলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ হয়েছেন আরো দুই জেলে। এ সময় অন্য একটি ট্রলারের মাঝিরা ১২ জেলেকে উদ্ধার করেন। গতকাল সকাল ১০টার দিকে বঙ্গোপসাগরের ধমারচর এলাকায় ‘এমবি সিরাজ’
নামে ওই ট্রলারডুবির ঘটনা ঘটে।
মারা যাওয়া জেলেরা হলেন জাহাজমারা ইউনিয়নের আমতলী গ্রামের বাসিন্দা মাইন উদ্দিন ও নতুন সুখচর গ্রামের বাসিন্দা মো. রাফুল। নিখোঁজ জেলেরা হলেন শরীফ ও বেলাল।
১২ জেলেকে উদ্ধারকারী ট্রলারের মালিক লুত্ফুল্লাহিল মজিব নিশান জানান, কয়েকদিন আগে ১৬ জন জেলে নিয়ে মাছ ধরতে গভীর সমুদ্রে যায় এমবি সিরাজ নামের ট্রলারটি। বৃহস্পতিবার গভীর রাত পর্যন্ত মাছ ধরা শেষ করে গতকাল ভোরে ঘাটের উদ্দেশে যাত্রা করেন তারা। সকাল ১০টার দিকে তাদের ট্রলারটি নিঝুমদ্বীপ এলাকার বঙ্গোপসাগরের ধমারচরে পৌঁছলে হঠাৎ প্রচণ্ড ঝড়ের কবলে পড়ে ডুবে যায়। এতে ট্রলারে থাকা ১৬ জেলে সাগরে পড়ে যান। পরে পাশে থাকা ‘এমবি ইয়ামিন চৌধুরীর’
ট্রলার ১২ জেলেকে জীবিত উদ্ধার করে। জোয়ারের আঘাতে ডুবে যাওয়া ট্রলারটি পাশের একটি চরে গিয়ে আটকা পড়লে লুত্ফুল্লাহিল মজিব নিশানের একটি ট্রলার ক্ষতিগ্রস্ত এমবি সিরাজ ট্রলারের ভেতর থেকে মাইন উদ্দিন ও রাফুলের মৃতদেহ উদ্ধার করে।
দুই জেলের মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে হাতিয়া থানার ওসি আমির হোসেন জানান, নিখোঁজদের উদ্ধারে বিভিন্ন স্থানে নৌ-পুলিশ ও কোস্টগার্ড অভিযান চালাচ্ছে।
এদিকে সাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ, ৩নং সতর্কতা সংকেত ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার নলচিরা-চেয়ারম্যানঘাটসহ সব রুটে নৌযান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে স্থানীয় প্রশাসন। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত সব নৌযানকে উপকূলের কাছাকাছি থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
গতকাল সকাল থেকে উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সেলিম হোসেন।
জানা গিয়েছে, লঘুচাপের প্রভাবে হাতিয়ার মেঘনা ও পার্শ্ববর্তী বঙ্গোপসাগর উত্তাল রয়েছে, চলছে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত। গতকাল ভোর থেকে উপজেলায় বৃষ্টি
ও প্রচণ্ড বেগে বাতাস বইছে। একদিকে বৃষ্টি, অন্যদিকে দমকা হাওয়ার কারণে নদী পারাপারে ঝুঁকি থাকায় সকাল থেকে সাময়িকভাবে নৌ-চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।
হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সেলিম হোসেন জানান, লঘুচাপের কারণে উপকূলে বর্তমানে ৩ নম্বর সতর্কতা সংকেত চলছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত উপকূলে এ নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।










