ময়মনসিংহ জেলায় ওমিক্রন মোকাবেলায় নানা প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ৪০২ শয্যা ও জেলার ১১টি উপজেলার প্রত্যেকটি হাসপাতালে ১০টি করে মোট ১১০টি শয্যা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। মমেক হাসপাতালে একটি অক্সিজেন জেনারেটর বসানোর কাজ চলছে। এর মাধ্যমে প্রাকৃতিক বাতাস থেকে অক্সিজেন তৈরি করা হবে। এ জেনারেটরের মাধ্যমে প্রতি মিনিটে ৫০০ লিটার অক্সিজেন সরবরাহ করা যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন। এটি তৈরির কাজ শেষ হলে অক্সিজেন সংকট অনেকটাই কমে আসবে বলে জানিয়েছেন মমেক হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. ওয়াইজ উদ্দিন। এদিকে ওমিক্রন মোকাবেলায় ময়মনসিংহ বিভাগীয় প্রশাসন বৃহস্পতিবার মমেক হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে করণীয় নির্ধারণ করেছে।
ময়মনসিংহের সিভিল সার্জন ডা. মো. নজরুল ইসলাম জানান, জেলার ১১টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০টি করে মোট ১১০টি শয্যা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। রোগী বৃদ্ধি পেলে উপজেলা হাসপাতালগুলোতে আরো ১০টি করে শয্যা বাড়ানো হবে। তাছাড়া উদ্বোধনের অপেক্ষায় ৫০ শয্যাবিশিষ্ট তারাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১০০ শয্যা করার একটি পরিকল্পনাও রয়েছে।
ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল হক জানান, ১২ জানুয়ারি জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। দেশব্যাপী করোনার প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় সংক্রমণ প্রতিরোধে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ কর্তৃক নতুন নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে নির্দেশনাগুলো বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এ সভা আয়োজন করা হয়। কমিটির সব সদস্য সভায় সংযুক্ত ছিলেন। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ কর্তৃক জারীকৃত নির্দেশনা কঠোরভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সভায় বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
মমেক হাসপাতালের
উপপরিচালক ডা. ওয়াইজ উদ্দিন ফরাজী জানান, ওমিক্রন মোকাবেলায় এরই মধ্যে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) ২২টি শয্যাসহ করোনা ইউনিটে মোট ৪০২টি শয্যা প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
বর্তমানে ১০০ শয্যা চালু রয়েছে। রোগী বাড়লে পর্যায়ক্রমে আরো বেড বাড়ানো হবে। রোগী বাড়লে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক সরবরাহ দেয়ার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও ময়মনসিংহ বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালককে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে।
উপপরিচালক আরো জানান, ১০ হাজার লিটার ধারণক্ষমতাসম্পন্ন সেন্ট্রাল অক্সিজেন প্লান্টটির স্থলে ২০ হাজার লিটারসম্পন্ন ট্যাংক বসানোর জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। মমেক হাসপাতালের ইমার্জেন্সি কাউন্টারে করোনা এবং ওমিক্রন সন্দেহজনক রোগীদের নমুনা সংগ্রহ করে প্রথমে অ্যান্টিজেন টেস্ট করা হচ্ছে। যাদের নেগেটিভ রেজাল্ট আসছে তাদের নমুনা মেডিকেল কলেজে স্থাপিত আরটিপিসিআর ল্যাবে পাঠানো হচ্ছে।
মমেক হাসপাতালের করোনা ইউনিটের ফোকাল পারসন ডা. মহিউদ্দিন খান মুন জানান, গত বছরের মাঝামাঝি করোনাকালে রোগীদের চাহিদার তুলনায় অক্সিজেন সংকট দেখা দিয়েছিল। এবারো সে বিষয়টিকেই তারা বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। এবার যেন কোনো সংকট না হয় সেজন্য আগেভাগেই তারা ঢাকায় যোগাযোগ রাখছেন। মমেক হাসপাতালে একটি অক্সিজেন জেনারেটর বসানোর কাজ চলছে। এর মাধ্যমে প্রাকৃতিক বাতাস থেকে অক্সিজেন তৈরি করা হবে। এটি তৈরির কাজ শেষ হলে সংকট অনেকটা কাটবে।










