সিলেট নগরীতে ভূগর্ভস্থ লাইনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়েছে। গতকাল থেকে সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) ১ নম্বর ওয়ার্ডের হযরত শাহজালাল (রা.) মাজার এলাকায় এ লাইনে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়। সিটি করপোরেশন ও বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে নগরীর সাত কিলোমিটার বিদ্যুৎ লাইন ভূগর্ভে স্থানান্তর করা হয়েছে। ক্রমান্বয়ে নগরীর ৪৫ কিলোমিটার বিদ্যুৎ লাইন ভূগর্ভে নেয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পুরনো হয়ে পড়ায় এবং ঝড়ে সিলেটের বিদ্যুৎ বিতরণ ও সঞ্চালন লাইন প্রায়ই ছিঁড়ে যায়। এতে বিদ্যুত্হীন হয়ে মানুষ দুর্ভোগে পড়ে এবং দুর্ঘটনা ঘটে। এ সমস্যা নিরসনে গত বছরের জুলাইয়ে ‘সিলেট বিভাগে বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা উন্নয়ন’ শীর্ষক ২ হাজার ৫৩ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন করে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এ প্রকল্পের আওতায় প্রাথমিকভাবে ৫৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নগরীর কিছু এলাকার বিদ্যুৎ লাইন ভূগর্ভে স্থানান্তর করা হচ্ছে। গত ফেব্রুয়ারিতে এ কাজ শুরু হয়।

সূত্র জানায়, নগরীর মোট ৪৫ কিলোমিটার বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন ভূগর্ভে স্থানান্তরের কাজ চলছে। এরই মধ্যে নগরীর কিছু অংশের সাত কিলোমিটার বিদ্যুৎ লাইন ভূগর্ভে স্থানান্তর করা হয়েছে। গতকাল থেকে হযরত শাহজালাল (রা.) মাজার এলাকায় পূর্ণাঙ্গ ভূগর্ভস্থ লাইনে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়।

প্রকল্প পরিচালক এমএম সিদ্দিক বলেন, সরকার সব নগরীর বিদ্যুৎ লাইন মাটির নিচে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। সিলেটে এ কাজ চলমান আছে। এ নগরীতে প্রায় ৭০ কিলোমিটার সঞ্চালন লাইন রয়েছে। প্রাথমিকভাবে সাত কিলোমিটার লাইন ভূগর্ভে নেয়া হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় নগরীতে মোট ১১ কেভির ২৫ কিলোমিটার, শূন্য দশমিক ৪ কেভির ১৮ কিলোমিটার ও ৩৩ কেভির দুই কিলোমিটার ভূগর্ভস্থ বিদ্যুৎ লাইন নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পের আওতায় পুরো বিভাগে আড়াই হাজার কিলোমিটার সঞ্চালন লাইন এবং সাড়ে তিন হাজার ট্রান্সফরমার বসানো হবে।

ভূগর্ভস্থ লাইনে সরবরাহ শুরু হওয়ায় হযরত শাহজালাল (রা.) মাজার এলাকায় মাটির উপরে থাকা বিদ্যুতের খুঁটি ও লাইন অপসারণ করা হয়েছে। গতকাল এ কাজ পরির্দশন করেন সিসিকের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, উন্নত রাষ্ট্রের আদলে দেশে এই প্রথম ভূগর্ভস্থ লাইন দিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। রাস্তার দুই পাশের বিদ্যুতের খুঁটিসহ টেলিফোন, ইন্টারনেট, কেবল অপারেটরসহ অন্যান্য সেবা প্রতিষ্ঠানের তার খুলে নেয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, এখন থেকে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বিদ্যুৎ বিভাগ ও সিটি করপোরেশনকে অবগত না করে ভূগর্ভস্থ বিদ্যুৎ লাইন গেছে এমন রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি করতে পারবে না।

সিসিকের প্রধান প্রকৌশলী মো. নূর আজিজুর রহমান বলেন, ভূগর্ভস্থ বিদ্যুৎ লাইন চালু করা চ্যালেঞ্জিং কাজ ছিল। দেশে প্রথমবারের মতো সিলেটে এ সেবা চালু হলো।