ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) প্রো-ভিসি (প্রশাসন) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী। আজ শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানা গেছে। এতে জানানো হয়, চার শর্তে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি (প্রশাসন) হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আদেশ, ১৯৭৩ এর আর্টিকেল ১৩(১) অনুযায়ী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রো-ভিসি (প্রশাসন) পদে নিয়োগ পেয়েছেন।

নিয়োগের শর্তের মধ্যে রয়েছে, প্রো-ভিসি পদে তার নিয়োগের মেয়াদ যোগদানের তারিখ থেকে ৪ বছর, এ পদে তিনি বর্তমান পদের সমপরিমাণ বেতনভাতাদি প্রাপ্য হবেন, বিধি অনুযায়ী অন্যান্য সুবিধা ভোগ করবেন এবং সার্বক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থান করবেন। এছাড়া তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংবিধি ও আইন নির্ধারিত ও ভাইস চ্যান্সেলর প্রদত্ত ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করবেন এবং রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর প্রয়োজনে যেকোনো সময় এ নিয়োগ বাতিল করতে পারবেন।

দুই যুগের বেশি সময় ধরে শিক্ষকতা ও গবেষণার অভিজ্ঞতা নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী। একই বিভাগ থেকে বিএসসি (সম্মান) ও এমএসসি (থিসিস) উভয় পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অর্জন করেন এবং পরবর্তীতে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন।

একাডেমিক মেধা ও গবেষণা-নিষ্ঠার স্বীকৃতিস্বরূপ ড. আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্স কর্তৃক ‘অ্যাসোসিয়েট ফেলো’ এবং ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কর্তৃক ‘ক্যাপস্টোন ফেলো’ নির্বাচিত হন।

তিনি গবেষণা সাময়িকী বাংলাদেশ জার্নাল অব প্ল্যান্ট ট্যাক্সোনমির চিফ এডিটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার শতাধিক দেশী-বিদেশী গবেষণা প্রবন্ধ এবং ৬টি আন্তর্জাতিক বই প্রকাশিত হয়েছে। ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানীর তত্ত্বাবধানে এ পর্যন্ত চার জন গবেষক পিএইচডি এবং ৪০-এর অধিক শিক্ষার্থী এমএসসি ডিগ্রি অর্জন করেছেন।

গবেষণাক্ষেত্রে বিশ্বে প্রথমবারের মতো ১৬টি নতুন শৈবাল প্রজাতি, একটি নতুন পদ্ম প্রজাতি এবং একটি পতঙ্গভুক উদ্ভিদের আবিষ্কার করেন ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী। এছাড়া শৈবাল-নির্ভর পানি বিশুদ্ধকরণ ন্যানো-ফিল্টার, সুপার ক্যাপাসিটর এবং বায়োসেন্সর উদ্ভাবনের মাধ্যমে পরিবেশ ও জৈবপ্রযুক্তি গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।

প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক ক্ষেত্রেও তিনি সমানভাবে সক্রিয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাবের সাবেক সম্পাদক, বর্তমানে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা, জীববিজ্ঞান অনুষদ সাদা দলের সাবেক আহ্বায়ক, ন্যাশনালিস্ট রিসার্চ ফাউন্ডেশনের সাবেক মহাসচিব এবং পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সংগঠন ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-ইউট্যাবের সাবেক প্রচার সম্পাদক ও বর্তমানে যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী। পাশাপাশি তিনি ৪০টির বেশি সামাজিক, সেবা ও গবেষণামূলক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত থেকে জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে অবদান রেখে চলেছেন।