সামনে টাঙানো হয়েছে পর্দা। দূর থেকে দেখে বোঝার উপায় নেই ভেতরে কী চলছে। এভাবেই সুকৌশলে মিরসরাইয়ে চলছে পাহাড় কাটা। পাহাড় কেটে তৈরি করা হচ্ছে বসতঘর। উপজেলার করেরহাট ইউনিয়নের বদ্ধ ভবানী এলাকায় দিনের পর দিন পাহাড় কেটে বসতঘর তৈরি করা হলেও যেন বাধা দেয়ার কেউ নেই। স্থানীয়রা বন বিভাগের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়ার অভিযোগ তুলেছেন।

জানা গেছে, মিরসরাই উপজেলার করেরহাট ইউনিয়নের দুটি বিটের আওতায় ১৪ হাজার ৩৭০ একর বনভূমি রয়েছে। এসব বনভূমির সবটুকু সংরক্ষিত। কিন্তু ওই ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে দিনের পর দিন সংরক্ষিত বনাঞ্চল ও পাহাড় ধ্বংস করে গড়ে উঠতে থাকে বসতবাড়ি। দীর্ঘদিন এসব বনাঞ্চল ধ্বংস হলেও ব্যবস্থা নেয়নি বন বিভাগ। মাঝেমধ্যে পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে কয়েকটি অভিযান পরিচালনা করা হলেও থামে না বন ও পাহাড়খেকোদের দৌরাত্ম্য।

সরেজমিনে করেরহাট ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বদ্ধ ভবানী এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ৩০ ফুট উঁচু প্রায় ১ একর পরিমাণের একটি পাহাড় কাটা হচ্ছে। পাহাড় কাটা গোপন করতে সামনে টাঙানো হয়েছে পর্দা। পাহাড়ের মাটি কেটে দেয়া হচ্ছে সামনের লেবু বাগানে। এরই মধ্যে পাহাড়টির প্রায় ৩০ শতাংশ কেটে ফেলা হয়েছে। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পাহাড়টি কাটছেন ওই গ্রামের শামসুল আলমের পুত্র ফখরুল ইসলাম। তবে রোববার হওয়ায় পাহাড় কাটা বন্ধ ছিল। কারণ ওইদিন স্থানীয় করেরহাট ও কয়লা বাজারহাট বসায় এলাকায় লোক সমাগম বেশি থাকে।

জানতে চাইলে পাহাড় কাটার সঙ্গে যুক্ত শামসুল আলমের পুত্র ফখরুল ইসলাম বলেন, পাহাড়টি দীর্ঘদিন আমরা ভোগদখল করে আসছি। পাহাড়ের মাটি ধসে অন্যের জমিতে পড়ায় পাহাড়টি কেটে বসতঘর তৈরি করছেন আমার বাবা। পাহাড় কাটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ জানালে তিনি বলেন, পাহাড়টি আমার বাবা বসতঘর তৈরি করতে কাটছে। আমি পাহাড় কাটার সঙ্গে জড়িত নই।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের করেরহাট রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন এলাহী বলেন, পাহাড় কাটা দণ্ডনীয় অপরাধ। করেরহাট রেঞ্জের ইসলামপুর ভবানী এলাকার পাহাড়গুলো সংরক্ষিত বনের আওতায় পড়েছে। এসব পাহাড় কেটে স্থাপনা তৈরির সুযোগ নেই কারো। এ বিষয়ে আমরা শিগগিরই আইনগত ব্যবস্থা নেব।