ঈদে গুঁড়ো মসলাজাতীয় পণ্য হলুদ, মরিচ ও ধনিয়ার চাহিদা বেড়ে যায়। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ভেজাল গুঁড়ো মসলা তৈরি করছেন মিল মালিকরা। আতপ চাল গুঁড়ো করে হলুদ ও মরিচের সঙ্গে মেশানো হয়। পরে রঙ দিয়ে বিভিন্ন অঞ্চলের ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করা হয়। প্রশাসনের অভিযানেও বন্ধ হচ্ছে না তাদের এ তৎপরতা। তবে অভিযানের নামে শুধু জরিমানা আদায় করলে হবে না, তাদের আইনের আওতায় এনে বিচারের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন ভোক্তারা।
শহরের মহাজনপট্টির ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিন ও নুরুল ইসলাম জানান, ফারুক ও হাসান রাইস মিলে ভেজাল গুঁড়ো মসলা তৈরি হচ্ছে বেশি। হাসানের মিলটিতে ঈদের সময় প্রতিদিন বস্তায় বস্তায় আতপ চাল আনা হয়। গভীর রাতে সেসব চাল গুঁড়ো করে হলুদ ও মরিচের সঙ্গে মেশানো হয়। পরে রঙ দিয়ে বিভিন্ন অঞ্চলের ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করা হয়।
খালপাড়ের ব্যবসায়ী জামাল উদ্দিন বলেন, ‘হলুদের গুঁড়োর সঙ্গে মেশানো হয় নিম্নমানের আতপ চালের গুঁড়ো। আর মরিচের পরিমাণ বাড়াতে পচা মরিচ ও গাছ শুকিয়ে মেশানো হয়। পরে এর সঙ্গে মেশানো হয় বার্নিস রঙ, যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।’
মসলায় ভেজাল ও রঙ মিশিয়ে মানুষকে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ফেলছে বলে দাবি সিভিল সার্জন ডা. একেএম শফিকুজ্জামানের। তিনি বলেন, ‘হলুদ-মরিচের সঙ্গে কেমিক্যালসহ অন্য কোনো পদার্থ মেশানো হলে সেটা মানবদেহের জন্য অবশ্যই ক্ষতিকর। এতে করে আমাদের পাকস্থলি, খাদ্যনালী, লিভার, কিডনিসহ বিভিন্ন সমস্যা তৈরি হতে পারে। ক্যান্সারও হওয়ার আশঙ্কাও থাকে।’
এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক আরিফুজ্জামান বলেন, ‘খাদ্যে ভেজালকারীদের সঙ্গে কোনো আপস নেই। তাদের বিরুদ্ধে বরাবরই অভিযান অব্যাহত রয়েছে। প্রতিদিনই ভেজালবিরোধী অভিযান পরিচালনায় আমাদের টিম মাঠে কাজ করছে। এরপর আমাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে কোনো ব্যবসায়ী যদি অনিয়ম করেও থাকে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’










