বাংলাদেশের বেসরকারি উচ্চশিক্ষা খাতের ইতিহাস লিখতে গেলে যার নাম সবার আগে আসে, সেটি হলো ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজি (আইইউবিএটি)। ১৯৯১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও আইবিএর সাবেক পরিচালক প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. এম আলিমউল্যা মিয়ান এক সুদূরপ্রসারী দর্শন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। তার মূল লক্ষ্য ছিল দেশের প্রতিটি গ্রাম থেকে অন্তত একজন করে পেশাদার গ্র্যাজুয়েট তৈরি করা। আন্তর্জাতিক মানের উচ্চশিক্ষাকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নাগালের মধ্যে নিয়ে আসা এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির মাধ্যমে জাতীয় উন্নয়নে অবদান রাখাই ছিল এ প্রতিষ্ঠানের মূল ভিত্তি।
একাডেমিক বৈচিত্র্য: বেসরকারি উচ্চশিক্ষার দিগন্ত উন্মোচনে আইইউবিএটির ভূমিকা অনস্বীকার্য। দেশের প্রথম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি বিবিএ এবং হোটেল ম্যানেজমেন্টের মতো যুগোপযোগী বিষয় চালু করে। শুধু তা-ই নয়, বেসরকারি পর্যায়ে কৃষি, নার্সিং ও মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষা শুরুর ক্ষেত্রেও আইইউবিএটি পথিকৃৎ। বর্তমানে ছয়টি অনুষদের অধীনে ১৪টি বিভাগে হাজার হাজার দেশী-বিদেশী শিক্ষার্থী এখানে মানসম্মত শিক্ষা গ্রহণ করছেন, যারা গত তিন দশক ধরে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে দক্ষতার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন।

সবুজ ক্যাম্পাস: রাজধানীর উত্তরায় সবুজে ঘেরা প্রায় ২০ বিঘা জমির ওপর স্থাপিত আইইউবিএটি ক্যাম্পাসটি দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে অনন্য। পরিকল্পিত অবকাঠামো, খোলামেলা প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং আধুনিক সুযোগ-সুবিধা শিক্ষার্থীদের জন্য একটি আদর্শ শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করেছে। দীর্ঘ ৩৫ বছরের এ পথচলায় প্রতিষ্ঠানটি কেবল একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে নয়, বরং একটি সুশৃঙ্খল ও অনুকরণীয় মডেল হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছে।
গবেষণা ও বৈশ্বিক র্যাংকিংয়ে অবস্থান: শিক্ষা কার্যক্রমের পাশাপাশি গবেষণার ক্ষেত্রেও আইইউবিএটি একটি শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে। ২০২৫ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গবেষণা খাতে দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে আইইউবিএটি পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে। এছাড়া কিউএস ও টাইমস হায়ার এডুকেশনের মতো বিশ্বখ্যাত আন্তর্জাতিক র্যাংকিংয়ে আইইউবিএটির নিয়মিত উপস্থিতি বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা খাতের মানকে বিশ্ব দরবারে আরো দৃঢ় ও মর্যাদাপূর্ণ করেছে।
সুযোগ-সুবিধা: আইইউবিএটি শুরু থেকেই সামাজিক দায়বদ্ধতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আসছে। মেধাবী শিক্ষার্থীরা যাতে আর্থিক সংকটের কারণে উচ্চশিক্ষা থেকে বঞ্চিত না হয়, সেজন্য এসএসসি ও এইচএসসির ফলের ভিত্তিতে এখানে শতভাগ মেধাবৃত্তি প্রদান করা হয়। এছাড়া শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাকে আরো সহজ ও সাশ্রয়ী করতে বিশ্ববিদ্যালয়টি নিজস্ব ফ্রি যাতায়াত সুবিধা প্রদান করে থাকে। মেধা ও যোগ্যতাকে গুরুত্ব দিয়ে সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরি করাই এ প্রতিষ্ঠানের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য।
সাফল্যের ৩৫ বছর: গত শুক্রবার জাঁকজমকপূর্ণভাবে আইইউবিএটির ৩৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত হয়েছে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুর রব। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহমুদুর রহমান, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সেলিনা নার্গিস, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. মোমতাজুর রহমান, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ড. মো. জাহিদ হোসেন (অব.), প্রকৌশল অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. মনিরুল ইসলাম, ব্যবসায় অনুষদের ডিন অধ্যাপক মোজাফ্ফর আলম চৌধুরীসহ বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারপারসন, কো-অর্ডিনেটর, শিক্ষক ও কর্মকর্তারা।
আইইউবিএটি উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুর রব বলেন, ‘৩৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এ গৌরবময় দিনে আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি এ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা, খ্যাতনামা শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. এম আলিমউল্যা মিয়ানকে। তার দূরদর্শী চিন্তা, সাহসী উদ্যোগ এবং মানসম্মত উচ্চশিক্ষা বিস্তারের স্বপ্ন বাস্তবায়নের ফলেই আজ আইইউবিএটি দেশের প্রথম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ৩৫ বছরের একটি গৌরবোজ্জ্বল যাত্রা সম্পন্ন করেছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘১৯৯১ সালে যে স্বপ্ন নিয়ে এ প্রতিষ্ঠান যাত্রা শুরু করেছিল, আজ তা একটি পূর্ণাঙ্গ শিক্ষা কেন্দ্রে রূপ নিয়েছে। শিক্ষা, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে আইইউবিএটি ধারাবাহিকভাবে অবদান রেখে চলেছে। আমাদের লক্ষ্য কেবল ডিগ্রি প্রদান নয়, বরং নৈতিকতা, দক্ষতা ও নেতৃত্বগুণসম্পন্ন মানবসম্পদ গড়ে তোলা, যারা দেশ ও জাতির উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।’










