থাইল্যান্ডে রফতানিযোগ্য চালের বাজার আগে থেকেই চড়া ছিল। সর্বশেষ সপ্তাহে খাদ্যপণ্যটির রফতানি মূল্য আরো বেড়ে গত সাত বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে উঠেছে। মূলত নভেল করোনাভাইরাসের মহামারীর কারণে ভারত ও ভিয়েতনাম থেকে রফতানি কমে আসার সম্ভাবনায় থাই চালের রফতানি মূল্য চাঙ্গা হয়ে উঠেছে। খবর বিজনেস রেকর্ডার ও ব্যাংকক পোস্ট।

থাইল্যান্ড বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ চাল রফতানিকারক দেশ। সর্বশেষ সপ্তাহে থাইল্যান্ডের বাজারে রফতানিযোগ্য ৫ শতাংশ ভাঙা চাল টনপ্রতি ৫৬০-৫৭০ ডলারে বিক্রি হয়েছে। ২০১৩ সালের এপ্রিলের পর এটাই থাই চালের সর্বোচ্চ রফতানি মূল্য।

ব্যাংককভিত্তিক ট্রেডাররা জানান, থাইল্যান্ডে ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ খরা চলছে। প্রতিকূল আবহাওয়ার জের ধরে দেশটিতে ধান-চালের উৎপাদন ও সরবরাহ সংকুচিত হয়ে এসেছে। এর প্রভাবে আগে থেকেই রফতানিযোগ্য থাই চালের বাজার চাঙ্গা ছিল। এর সঙ্গে এখন যুক্ত হয়েছে ভারত, ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়া থেকে চাল রফতানি কমে আসার সম্ভাবনা। 

নভেল করোনাভাইরাসের মহামারীর কারণে ভারতে তিন সপ্তাহের লকডাউন চলছে। ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়েছে। খাদ্যপণ্যটির রফতানিতে নতুন কোনো চুক্তি সই করছেন না ভারতীয় চাল রফতাানিকারকরা। 

একই চিত্র ভিয়েতনামেও। মহামারীর কারণে দেশটি চালের অভ্যন্তরীণ মজুদ বাড়াচ্ছে। এ কারণে রফতানি কার্যক্রম সাময়িক স্থগিত করা হয়েছে। নতুন রফতানি চুক্তি সই থেকে বিরত রয়েছেন দেশটির রফতানিকারকরা। 

নাগরিকদের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য অভ্যন্তরীণ মজুদ বৃদ্ধির লক্ষ্য সামনে রেখে

গত সপ্তাহে সেদ্ধ চাল রফতানি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে কম্বোডিয়াও। শীর্ষ রফতানিকারকদের এমন পরিস্থিতিতে এশিয়া ও আফ্রিকার আমদানিকারক দেশগুলোয় চাহিদা বাড়ছে থাই চালের। 

একদিকে তীব্র খরায় উৎপাদন ও সরবরাহ কমে আসা, অন্যদিকে ভারত ও ভিয়েতনামের বাজার সংকুচিত হয়ে আসায় রফতানি বৃদ্ধির সম্ভাবনা—এ দুইয়ের মিথস্ক্রিয়ায় সর্বশেষ সপ্তাহে রফতানিযোগ্য থাই চালের দাম সাত বছরের রেকর্ড ছাড়িয়েছে। আপত্কালীন ব্যবহারের জন্য থাইল্যান্ড থেকে জরুরি ভিত্তিতে তিন লাখ টন চাল আমদানি করছে ফিলিপাইন।