কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যাপক প্রসারের কারণে বৈশ্বিক প্রযুক্তি ব্যবসায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে। এর সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশে পিসি (পারসোনাল কম্পিউটার) ব্যবসার পাশাপাশি এআই, সার্ভার ও স্টোরেজ সলিউশন ব্যবসা সম্প্রসারণে জোর দিচ্ছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান লেনোভো। সম্প্রতি গাজীপুরের একটি রিসোর্টে অনুষ্ঠিত ‘লেনোভো লিডারস সার্কেল ২০২৬’ শীর্ষক আয়োজনে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা এ তথ্য জানান। অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন শিল্প খাতের নির্বাহীরা প্রযুক্তির সাম্প্রতিক প্রবণতা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন। বিশেষত এআইয়ের দ্রুত বিকাশ ও প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে এ প্রযুক্তির সুফল কাজে লাগাতে পারে, তা নিয়ে মতবিনিময় হয়। এছাড়া লেনোভোর সর্বশেষ উদ্ভাবনী প্রযুক্তি প্রদর্শন করা হয়।
অনুষ্ঠানে থাকরাল ইনফরমেশন সিস্টেমস প্রাইভেট লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক বাসব প্রসাদ বাগচী গ্রুপটির ব্যবসায়িক ক্রমবিকাশ ও লেনোভোর সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্বের বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘১৯০৫ সালে একটি ছোট দোকান থেকে থাকরাল গ্রুপের যাত্রা হয়। এরপর ধাপে ধাপে জাপান, সিঙ্গাপুর, চীন, হংকংসহ প্রায় ৩৫টি দেশে ব্যবসা সম্প্রসারণ করা হয়। ১৯৯৫ সালে সিঙ্গাপুর স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত হয়। বর্তমানে পঞ্চম প্রজন্ম প্রতিষ্ঠানটির নেতৃত্বে রয়েছে।’
জাপানি ব্যবস্থাপনা রীতি অনুসরণ করে থাকরাল গ্রুপ বিনয়ী ও দায়িত্বশীল ব্যবসা পরিচালনা এবং করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতাকে গুরুত্ব দেয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের ব্যবসার মূল ভিত্তি প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ, কৌশলগত অংশীদারত্ব ও গ্রাহককেন্দ্রিকতা। মূল পণ্য উৎপাদকদের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক নিছক ব্যবসায়িক লেনদেনে সীমাবদ্ধ নয়; আমরা দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কে বিশ্বাসী। বাংলাদেশে তিন দশক ধরে আইবিএমের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক এর একটি উদাহরণ।’
আইবিএমের পিসি ব্যবসা লেনোভো অধিগ্রহণের পর থেকেই প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে কাজ করছেন জানিয়ে বাসব প্রসাদ বাগচী বলেন, ‘বাংলাদেশে আমরা লেনোভোর অন্যতম পুরনো অংশীদার। ১৭টির বেশি দেশে লেনোভোর সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক রয়েছে। শুধু লেনোভো নয়, সিসকো, এফ৫, সেলসফোর্স, হুয়াওয়ে, মোডফিন, পেলজিক, নিটানিক্স ও ওরাকলের মতো ব্র্যান্ডের সঙ্গেও আমাদের অংশীদারত্ব রয়েছে।’
প্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে থাকরালের ব্যবসার ধরনও বদলেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে আমরা সিস্টেম ইন্টিগ্রেশন, সফটওয়্যার, এপিআই ম্যানেজমেন্ট, কোর ব্যাংকিং, ডিজিটাল ব্যাংকিং ও ডিজিটাল এক্সপেরিয়েন্স সমাধানের দিকে এগিয়েছি। আমাদের দেড়শর বেশি প্রকৌশলী রয়েছেন এবং আমরা সপ্তাহে সাতদিন, ২৪ ঘণ্টা গ্রাহকদের পাশে থাকার চেষ্টা করি।’
অনুষ্ঠানে লেনোভো (ইন্ডিয়া) প্রাইভেট লিমিটেডের পরিচালক (ওভারসিজ বিজনেস) নবীন কেজরিওয়াল বলেন, ‘আমরা উদ্ভাবনকে শুধু উদ্ভাবনের জন্য করি না; শিল্পে এর ভূমিকা কী হতে পারে, সেটিকে সামনে রেখে কাজ করি।’ তিনি জানান, ১৯৮৪ সালে ‘লিজেন্ড’ নামে যাত্রা করা প্রতিষ্ঠানটি পরবর্তী সময়ে ‘লেনোভো’ নামে রিব্র্যান্ড হয়। ২০০৫ সালে আইবিএমের পিসি ডিভিশন অধিগ্রহণের মাধ্যমে লেনোভো বৈশ্বিক পর্যায়ে প্রবেশ করে।
নবীন কেজরিওয়াল আরো বলেন, ‘পাঁচ-ছয় বছর ধরে আমরা বিশ্বব্যাপী পিসির বাজারে ১ নম্বর অবস্থান ধরে রেখেছি। মটোরোলা মোবাইল ও ফুজিৎসুর মতো ব্র্যান্ডও অধিগ্রহণ করেছি। সর্বশেষ স্টোরেজ ব্যবসায়ও বড় একটি অধিগ্রহণ করেছি, যার ইন্টিগ্রেশন এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।’
বাংলাদেশে ব্যবসা সম্প্রসারণের তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘গত তিন বছরে বাংলাদেশে বিক্রি প্রায় আড়াই গুণ বেড়েছে। পিসির বাজারে অংশীদারত্ব ২০২২ সালের ১২-১৩ শতাংশ থেকে বেড়ে এখন প্রায় ৪৩ শতাংশে পৌঁছেছে। ওয়ার্কস্টেশনে অংশীদারত্ব ৮০ শতাংশের বেশি। এখন আমরা সার্ভার, স্টোরেজ ও সার্ভার সলিউশনে জোর দিচ্ছি।’
লেনোভোর বৈশ্বিক ব্যবসায় নন-পিসি খাতের গুরুত্ব তুলে ধরে নবীন কেজরিওয়াল বলেন, ‘বৈশ্বিকভাবে আমাদের ব্যবসার ৪৩ শতাংশই এখন নন-পিসি খাত থেকে আসে। পারসোনাল ও এন্টারপ্রাইজ এআই নিয়েও আমরা কাজ করছি।’
অনুষ্ঠানে লেনোভোর বিভিন্ন পণ্য ও সমাধান সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন প্রতিষ্ঠানটির কমার্শিয়াল বিজনেস হেড সামীর ভার্শনে। এ সময় এন্টারপ্রাইজ অবকাঠামো, নির্ভরযোগ্যতা ও এআই-ভিত্তিক সার্ভার পোর্টফোলিও নিয়েও বিভিন্ন তথ্য জানান লেনোভোর আইএসজি স্পেশালিস্ট রাকেশ পুশকারনে।










