পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে যৌথভাবে সচেতনতামূলক কর্মসূচির আয়োজন করেছে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) বাংলাদেশ ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (সিসিসি)। শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) আয়োজিত এ কর্মসূচির মূল আহ্বান ছিল, একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক দূষণ মোকাবেলায় অংশগ্রহণ করা। এতে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবীরা অংশ নেন।

আয়োজনে প্রধান অতিথি ছিলেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, পতেঙ্গা আমাদের সবচেয়ে বেশি পরিদর্শিত উপকূলীয় এলাকাগুলোর একটি। কিন্তু প্লাস্টিক দূষণ এখানকার সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্যের জন্য বড় হুমকি। এ উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা এমন একটি দায়িত্বশীল সংস্কৃতি গড়ে তুলতে চাই, যেখানে প্রতিটি দর্শনার্থী ও নাগরিক নিজেদের সৈকত পরিচ্ছন্ন রাখা এবং সাগরকে সুস্থ রাখার দায়িত্ব নেবেন।

ইউএনডিপি বাংলাদেশের সহকারী রেসিডেন্ট রিপ্রেজেন্টেটিভ সরদার এম. আসাদুজ্জামান পতেঙ্গার পরিবেশের গুরুত্বের কথা উল্লেখ করে বলেন, পতেঙ্গা শুধু একটি সৈকত নয়, এটি চট্টগ্রামের গর্বের প্রতীক। কিন্তু এখানে জমা হওয়া প্লাস্টিক বর্জ্য সামুদ্রিক প্রাণী, জনস্বাস্থ্য এবং জীবিকার জন্য হুমকি তৈরি করছে। এর মোকাবেলায় এক সঙ্গে কাজ করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান রইল।

দেশে প্রতিবছর প্রায় ৮ লাখ টন প্লাস্টিক বর্জ্য উৎপন্ন হয়, যার মধ্যে চট্টগ্রাম শহর দৈনিক প্রায় ৩ হাজার টন উৎপন্ন হয়। এর একটি বড় অংশ কর্ণফুলী নদী ও বঙ্গোপসাগরে গিয়ে মিশে। যা জীববৈচিত্র্য এবং উপকূলে বসবাস করা মানুষের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করে।

দিনব্যাপী এ কর্মসূচিতে তরুণ স্বেচ্ছাসেবীরা সৈকত পরিষ্কার কার্যক্রম পরিচালনা করেন। পরিবেশবান্ধব ডাস্টবিন ও সচেতনতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন করে এবং দর্শনার্থীদের প্লাস্টিক ব্যবহার না করার জন্য উদ্বুদ্ধ করেন। সচেতনতামূলক বার্তাগুলোয় তুলে ধরা হয় প্লাস্টিক বর্জ্যের সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের ওপর প্রভাব এবং দায়িত্বশীল ভোক্তা আচরণের গুরুত্ব।

এ কর্মসূচি ইউএনডিপি বাংলাদেশের ‘‌প্লাস্টিক সার্কুলারিটি প্রজেক্ট’ এর অংশ, যা দ্য কোকা-কোলা ফাউন্ডেশনের সহায়তায় বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রকল্পটির লক্ষ্য চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও টাঙ্গাইল জেলায় ১৫ হাজার টন প্লাস্টিক বর্জ্য পুনরুদ্ধার ও ব্যবস্থাপনা করা। যাতে প্লাস্টিক দূষণ থেকে পুনর্ব্যবহারযোগ্য সম্পদে রূপান্তরিত হয়।