গত এক বছরে সরকারের ট্রেজারি-বিল বন্ডের সুদহার কয়েক গুণ বেড়েছে। স্বল্প মেয়াদি ট্রেজারি বিলের সুদহারও উঠেছে ১১-১২ শতাংশে। এ অবস্থায় সরকারকে ঋণ দিয়ে বিদায়ী বছরে ৫ হাজার ৬৩৪ কোটি টাকা পরিচালন মুনাফা পেয়েছে সোনালী ব্যাংক। আয়কর ও নিরাপত্তা সঞ্চিতি (প্রভিশন) সংরক্ষণের পর নিট মুনাফা ১ হাজার ৪২৫ কোটি টাকা থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. শওকত আলী খান।
বিগত বছরের অর্জন ও আগামীর পরিকল্পনার বিষয়ে জানাতে বৃহস্পতিবার (২ জানুয়ারি) মতিঝিলে সোনালী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। ওই সভায় জানানো হয়, সোনালী ব্যাংকের অর্জিত পরিচালন মুনাফার প্রায় ৪৫ শতাংশ ট্রেজারি কার্যক্রম থেকে এসেছে। তবে গত বছর সুদ খাত থেকেও ভালো আয় করেছে ব্যাংকটি। এক্ষেত্রেও ঋণের সুদহার বাড়ানোর প্রভাব রয়েছে।
সভায় সোনালী ব্যাংক এমডি বলেন, সোনালী ব্যাংকে এখন সব ধরনের আধুনিক ব্যাংকিং সেবা মিলছে। এর মধ্যে সোনালী ই-ওয়ালেট, আই-ব্যাংকিং, অনলাইন ইসলামী ব্যাংকিংয়ের মতো সেবাগুলো রয়েছে। তবে নতুন বছরে সেবার মান আরো বাড়িয়ে সোনালী ব্যাংক সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যেতে চায়। এজন্য রফতানিমুখী এসএমই খাতসহ বিভিন্ন খাতে অর্থায়ন বাড়ানোর পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।
তিনি জানান, ২০২৪ সালে সোনালী ব্যাংক ৫ হাজার ৬৩৪ কোটি টাকা পরিচালন মুনাফা পেয়েছে। এ মুনাফা আগের বছরের চেয়ে ১ হাজার ৭৮৮ কোটি টাকা বেশি। ২০২৩ সালে সোনালী ব্যাংক ৩ হাজার ৮৪৬ কোটি টাকা পরিচালন মুনাফা পেয়েছিল।
শওকত আলী খান বলেন, গত বছর সোনালী ব্যাংকে ১৪ হাজার ৩৪২ কোটি টাকার আমানত বেড়েছে। বছর শেষে ব্যাংকটির আমানতের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬৪ হাজার ৯৬০ কোটি টাকা। তবে ২০২৩ সালের তুলনায় ১ হাজার ৬২৪ কোটি টাকার ঋণ স্থিতি কমেছে। গত বছর শেষে সোনালী ব্যাংকের বিতরণ করা ঋণের স্থিতি ছিল ৯৯ হাজার ৪৮০ কোটি টাকা। সরকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দায় শোধ করে দেয়ার কারণে ঋণ স্থিতি কিছুটা কমেছে। তবে প্রকৃত ঋণ প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা বেড়েছে।
মতবিনিময় সভায় সোনালী ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।










