যুক্তরাষ্ট্রে চাহিদা কম থাকা সত্ত্বেও মেক্সিকো, জার্মানি ও অন্যান্য বাজারে বিক্রি বৃদ্ধির কারণে চতুর্থ প্রান্তিকে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি আয় করেছে কোকা-কোলা। সম্প্রতি আটলান্টাভিত্তিক পানীয় কোম্পানিটি অক্টোবর-ডিসেম্বরের বিক্রির তথ্য জানিয়েছে। খবর এপি।
এ বেভারেজ জায়ান্টের আয় এ প্রান্তিকে ৭ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৮০ কোটি ডলার হয়েছে, যা এর আগে কোকা-কোলার দেয়া আয় পূর্বাভাসের সীমা অতিক্রম করে গেছে।
বয়কট ও মূল্যবৃদ্ধি জনিত নানা প্রতিকূলতায় চাহিদা কমে যাওয়ায় আয়ের ক্ষেত্রে নিজেদের প্রত্যাশা সীমাবদ্ধ রেখেছিল কোম্পানিটি। কিন্তু চতুর্থ প্রান্তিক শেষে দেখা যায় প্রতিকূলতা ডিঙিয়ে ক্রমহ্রাসমান চাহিদার সমস্যা কাটিয়ে উঠছে প্রতিষ্ঠানটি।
আর্জেন্টিনায় উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে কোকা-কোলার আয় ২০২৩ সালে ১০ শতাংশ বেড়েছে। যদিও পুরো বছরের প্রবৃদ্ধি নিয়ে প্রত্যাশা ছিল মধ্যমমানের, ৬-৭ শতাংশ। কোকের চিফ ফাইন্যান্সিয়াল অফিসার জন মারফি ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন যে চলতি বছরও উচ্চ মূল্যস্ফীতি বিদ্যমান থাকবে। তবে বছরজুড়ে সে দাম সমন্বয় করার চেষ্টা করবেন তারা।
প্রতিবেদনে বলা হয়, কোমলপানীয়, জুস ও কোকা-কোলা জিরো সুগার ছিল বিক্রির সামনে সারিতে। ওই প্রান্তিকে প্রতি ইউনিট কেসে চাহিদা বেড়েছে ২ শতাংশ। তবে কমেছে স্পোর্টস ড্রিংকস, কফি ও চায়ের চাহিদা।
অন্যদিকে উত্তর আমেরিকায় ইউনিট কেসে চাহিদা কমেছে ১ শতাংশ। ওই অঞ্চলে কোকা-কোলার পণ্যের দাম পুরো বছরে ৪ শতাংশ বেড়েছে বলে জানায় প্রতিষ্ঠানটি।
কোকের সিইও জেমস কুইন্সি বলেন, ‘দাম বৃদ্ধি কিছু ক্ষেত্রে ভোক্তা চাহিদাকে প্রভাবিত করেছে। তবে যারা বাড়ির বাইরে কম যান, সেসব মানুষের কাছেই কোকো-কোলার কোমলপানীয়ের চাহিদা কমেছে। অন্যদিকে ফেয়ারলাইফ মিল্ক, কোর পাওয়ার প্রোটিন শেক ও জুস ভোক্তারা ক্রমবর্ধমানভাবে উচ্চ মূল্যের পানীয় বেছে নিচ্ছেন।’
কোকা-কোলার মূল্যবৃদ্ধি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘বাজার ও মূল্যনির্ধারণে বিভিন্ন সমস্যা মোকাবেলায় সক্রিয়ভাবে কাজ করছি আমরা।’
এদিকে সর্বশেষ প্রান্তিকে বিক্রিতে মিশ্র পরিস্থিতি দেখেছে কোকা-কোলার প্রতিদ্বন্দ্বী আরেক বেভারেজ ও স্ন্যাকস জায়ান্ট পেপসিকো। সম্প্রতি কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়, উত্তর আমেরিকায় খাদ্য ও পানীয়ের চাহিদা কমার প্রভাব পড়েছে জনপ্রিয় ব্র্যান্ডগুলোর বিক্রিতে।
এ সময় নেট বিক্রি দশমিক ৫ শতাংশ কমে ২ হাজার ৭৮৫ কোটি ডলার হয়েছে। এর আগে পূর্বাভাসে বলা হয়েছিল, বিক্রি ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ২ হাজার ৮৪০ কোটি ডলার হবে।
করোনা মহামারী-পরবর্তী সময়ে সরবরাহ চেইনে ব্যাপক ব্যাঘাতের সম্মুখীন হয় পেপসিকো। পাশাপাশি উৎপাদন খরচের প্রভাবে বেড়ে যায় দামও। এসব কারণে অনেকটা লক্ষ্যের চেয়ে পিছিয়ে পড়ে এ জায়ান্ট।










