নারায়ণগঞ্জের নিতাইগঞ্জে আটা-ময়দার দাম আরো এক দফা বেড়েছে। রাশিয়া ও ইউক্রেন থেকে আমদানীকৃত গমের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবেই ঊর্ধ্বমুখী হয়ে উঠেছে আটা-ময়দার বাজার। ব্যবসায়ীরা বলেছেন, কৃষ্ণ সাগর দিয়ে ইউক্রেনের গম সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এসব গম বাংলাদেশে আসছে বিকল্প পথে। ফলে ব্যয় বেশি হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ে সরবরাহও সম্ভব হচ্ছে না। রাশিয়ার গমও আসছে অন্য পথে।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি মণ রাশিয়ান গম বেচাকেনা হচ্ছে ১ হাজার ৪৬০ টাকা দরে। ইউক্রেনের গম বেচাকেনা হচ্ছে ১ হাজার ৩৩০ টাকায়। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের আগে রাশিয়ার গমের দাম ছিল ৯৫০ থেকে ১ হাজার টাকা। আর ইউক্রেন বিক্রি করেছিল ৮৫০-৯২০ টাকায়। যু্দ্ধের কারণে গত বছর দাম ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকায় উঠে যায়। পরবর্তী সময়ে কৃষ্ণ সাগরীয় শস্য চুক্তি হলে গমের বাজারদর নিম্নমুখী হতে থাকে। কিন্তু সম্প্রতি রাশিয়া এ চুক্তি থেকে বের হয়ে আসায় ফের দাম বাড়তে শুরু করেছে।
গমের দাম বাড়ার কারণে বেড়েছে আটা-ময়দার দামও। এক-দুই সপ্তাহের ব্যবধানে ভালো মানের ময়দা (৫০ কেজির বস্তা) বাজারে বেচাকেনা হচ্ছে ২ হাজার ৫০০ টাকায়। যার কেজিপ্রতি দাম পড়ছে পাইকারিতে ৫০ টাকা। কিছুটা নিম্ন মানের ময়দা (৫০ কেজির বস্তা) বেচাকেনা হচ্ছে ২ হাজার ৪০০ টাকা দরে। খুচরায় প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪৮ টাকা। ভালো মানের আটা (৫০ কেজির বস্তা) বেচাকেনা হচ্ছে ১ হাজার ৯০০ টাকায়। প্রতি কেজির দাম পড়ছে ৩৮ টাকা । কিছুটা নিম্নমানের আটা বেচাকেনা হচ্ছে ১ হাজার ৮৫০ টাকা দরে, যা কেজিপ্রতি বেচাকেনা হচ্ছে ৩৭ টাকা দরে।
নারায়ণগঞ্জ আটা-ময়দা ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সভাপতি শেখ ওয়াজেদ আলী বাবুল জানান, নিতাইগঞ্জে এক-দেড় মাস ধরে আটা-ময়দার বেচাকেনায় মন্দা চলছে। এদিকে ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধের কারণে বাজারে গমের দাম বেড়েছে। বেশি দামে গম কিনে তা নিজেদের মিলে ভেঙে বেচাকেনা করতে গিয়ে লোকসান গুনতে হচ্ছে। বেচাকেনা মন্দার কারণে নিতাইগঞ্জের অনেক আটা-ময়দার মিল অর্ধবেলা তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে।










