যুক্তরাজ্যে ই-মেইল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের ঘটনা বেড়েছে। এক বছরে এ ধরনের প্রতারণায় চুরি হওয়া অর্থের পরিমাণ বেড়েছে ৪০০ শতাংশের বেশি। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশজুড়ে এভাবে হাতিয়ে নেয়া হয়েছে ৬৩ লাখ পাউন্ড। আগের অর্থবছরে এর পরিমাণ ছিল ১২ লাখ পাউন্ড। খবর দ্য গার্ডিয়ান।

যুক্তরাজ্যের সিটি অব লন্ডন পুলিশের পরিচালিত রিপোর্ট ফ্রড সেবার তথ্য থেকে এ চিত্র পাওয়া গেছে। অর্থনৈতিক অপরাধের বিষয়ে জাতীয় পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে সংস্থাটি।

সাইবার সিকিউরিটি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতারণার একটি প্রচলিত পদ্ধতি হলো মানুষের ই-মেইল বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট দখল করে নেয়া। এরপর অপরাধীরা ওই ব্যক্তির পরিচয় ব্যবহার করে তার বন্ধু ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। অনেক ক্ষেত্রে ভুয়া অনুষ্ঠানের টিকিট বিক্রির কথা বলেও অর্থ হাতিয়ে নেয় তারা। বিশেষ করে আগে থেকেই বিক্রি হয়ে যাওয়া কনসার্ট বা অনুষ্ঠানের টিকিটকে কেন্দ্র করে এ ধরনের প্রতারণা বাড়ছে।

যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এর আগে এমন একটি ঘটনা তুলে ধরেছিল। এক সংগীতপ্রেমীর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট হ্যাক করার পর তার পরিচয়ে একটি কনসার্টের টিকিট বিক্রির বিজ্ঞাপন দেয়া হয়।

শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নয়, হোয়াটসঅ্যাপ ও খুদে বার্তার মাধ্যমেও একই ধরনের প্রতারণা চলছে। এক্ষেত্রে হ্যাকাররা কারো সন্তান বা আত্মীয়ের পরিচয় দেয়। পরে জরুরি পরিস্থিতির কথা বলে দ্রুত অর্থ পাঠাতে বলে।

যুক্তরাজ্যে এ ধরনের প্রতারণা ‘হাই মম’ স্ক্যাম নামে পরিচিত।

রিপোর্ট ফ্রডের কার্যক্রমের প্রধান চিফ সুপারিনটেনডেন্ট আমান্ডা উলফ বলেন, ‘অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার ঘটনা শুধু সাইবার নিরাপত্তার বিষয় নয়। এর সঙ্গে ব্যক্তিগত নিরাপত্তাও জড়িত। এতে ভুক্তভোগীরা গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টে প্রবেশাধিকার হারাতে পারেন। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত তথ্য নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়।’

তিনি বলেন, ‘একটি অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার ঘটনা দ্রুত পরিবার, বন্ধু ও সহকর্মীদেরও ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। কারণ প্রতারকরা পরিচিত মানুষের ওপর আস্থার সুযোগ নিয়ে পরবর্তী প্রতারণা চালায়।’

এ ধরনের প্রতারণা ঠেকাতে সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে রিপোর্ট ফ্রড। অনলাইন অ্যাকাউন্টে পাসকি ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছে সংস্থাটি। যেখানে সুবিধাটি রয়েছে, সেখানে পাসওয়ার্ডের পরিবর্তে পাসকি ব্যবহারের আহ্বান জানানো হয়েছে।

পাসকি একটি ডিজিটাল নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এখানে ব্যবহারকারীর নিজের ডিভাইস ও বায়োমেট্রিক তথ্য দিয়ে পরিচয় যাচাই করা হয়। ফলে প্রচলিত পাসওয়ার্ডের মতো সহজে চুরি বা হ্যাক করা যায় না।