দিনাজপুরের বাজারে পেঁয়াজ, আদা, রসুন ও আলুর দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভারত থেকে আমদানি বন্ধ থাকায় পেঁয়াজের দাম বাড়লেও অন্যান্য পণ্যের দাম বৃদ্ধির বিষয়ে তারা অবগত নয়।
সম্প্রতি দিনাজপুরের প্রধান পাইকারি দুটি বাজার ঘুরে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলাপকালে বিক্রেতারা এ কথা জানান। শহরের বাহাদুর বাজার ও রেলবাজারসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, আদা ২৮০ টাকা কেজি, রসুন ১৪০ টাকা, দেশী পেঁয়াজ ৬০-৬৫ টাকা, দেশী জাতের আলু ৪০ টাকা এবং কার্ডিনাল, কারেজ ও মাল্টা জাতের উচ্চফলনশীল আলু ২৫-৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
দিনাজপুর জেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক মো. শহীদুল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘দেশে প্রতি বছর ব্যবসায়ীরা নানা অজুহাতে রোজার শুরুতে এক দফা এবং ঈদের আগে আরেক দফা নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে দেন। কিন্তু এবার রোজার মাস বা ঈদের আগে পণ্যের দাম বাড়েনি। বেড়েছে ঈদের ১০ দিন পর থেকে। ফলে তা জনসাধারণের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে।’
শহরের রেলবাজার হাটের পাইকারি বিক্রেতা মোমিনুল ইসলাম জানান, ঈদের আগেও বাজারে দেশী পেঁয়াজ ৩০ টাকা, আর ভারতীয় পেঁয়াজ ২২-২৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। দেশী রসুন বিক্রি হয়েছে ৫০ টাকা আর আদা ১৪০ টাকা কেজি দরে। দেশী চল্লিশা আলু ২০-২২ টাকা আর কার্ডিনাল, কারেজসহ সব ধরনের উচ্চফলনশীল জাতের আলু ১৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। কিন্তু ঈদের পর ভারত থেকে পেঁয়াজ আসা বন্ধ। বাজারে একমাত্র দেশে উৎপাদিত পেঁয়াজ কেনাবেচা হচ্ছে। ফলে পেঁয়াজের দাম বাড়তে পারে। কিন্তু রসুন, আদা ও আলু তো দেশেই উৎপাদন হয়। আমদানিতেও বিধিনিষেধ নেই। এ অবস্থায় উল্লিখিত তিনটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কী কারণে অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে ব্যবসায়ীরা তা বুঝতে পারছেন না।
আব্দুল খালেক নামে শহরের রেলবাজার পাইকারি বাজারের আড়তদার বলেন, ‘প্রতি বছরের মার্চ-এপ্রিলে ব্যবসায়ী ও হিমাগার মালিকরা বাজার থেকে আলু কিনে স্টক করে রাখেন। এ সময় আলুর দাম বাড়ে। হিমাগারের জন্য আলু কেনা বন্ধ হয়ে গেলে বাজারে আলুর দাম কমে যায়।’
দিনাজপুর আদর্শ কলেজের শিক্ষক মো. ইয়ার হোসেন বলেন, ‘বাজারে আলু, পেঁয়াজ, রসুন ও আদার পাশাপাশি সব ধরনের সবজির দাম বিনা কারণে বেড়ে চলেছে। বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকার তথা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ কর্তৃপক্ষের কোনো দায়দায়িত্ব নেই। অথচ দ্রব্যমূল্যের এ লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির কারণে চাকরিজীবী, শ্রমজীবী মানুষের কষ্ট প্রতিনিয়ত বাড়ছে।’










