জুলাইয়ে রফতানিতে নতুন রেকর্ড করেছে ইউরোপের দেশ নরওয়ে। দেশটির পরিসংখ্যান সংস্থা জানিয়েছে, গত মাসে নরওয়ের রফতানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৪০০ কোটি ডলারে। চলতি বছরের জুনের চেয়ে যা দশমিক ৪ শতাংশ বেশি। খবর রয়টার্স।
কেবল যে রফতানিতেই প্রবৃদ্ধি হয়েছে তা নয়, নরওয়ের বাণিজ্য উদ্বৃত্তও রেকর্ড ছুঁয়েছে। জুলাইয়ের শেষে দেশটির বাণিজ্য উদ্বৃত্তের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৫৮০ ডলার।
নরওয়ে হলো অফশোর তেল ও গ্যাসের বড় উৎপাদক। যেহেতু বিশ্বে জ্বালানির দাম বেড়েছে তাই, সে সুযোগটা কাজে লাগিয়েছে নরওয়ে। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের কারণে ইউরোপের দেশগুলো যখন জ্বালানির জন্য রাশিয়ার বিকল্প কিছু খুঁজছিল, তখনই রফতানি বেড়ে যায় নরওয়ের।
স্ট্যাটিসটিকস নরওয়ে বলছে, জুলাইয়ে ১ হাজার ৩২০ কোটি ডলারের প্রাকৃতিক গ্যাস রফতানি করা হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় চার গুণ বেশি।
প্রতিষ্ঠানটির জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা জন ওলাভ রোয়েরহাস বলেন, যুদ্ধ শুরুর পর রাশিয়া নর্ড স্ট্রিম-১ পাইপলাইন দিয়ে গ্যাস সরবরাহ কমিয়ে দেয়ায় বেড়ে যায় গ্যাসের দাম। যার কারণে নরওয়ে থেকে গ্যাস সরবরাহ বেড়ে যায়। আর এ কারণেই এখন রফতানিতে উচ্চ প্রবৃদ্ধি দেখছে নরওয়ে।
সম্প্রতি নরডিক পাঁচটি দেশের নেতাদের এক বৈঠকে দেশগুলোর প্রধানমন্ত্রীরা নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর জোর দেন। বিশেষ করে বায়ু ও সৌরবিদ্যুৎ থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিমাণ বাড়াতে হবে। তাহলে রাশিয়ার জ্বালানির ওপর অতিনির্ভরতার কারণে সৃষ্ট সংকট মোকাবেলা করা যাবে।
ডেনিশ প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন বলেন, আমাদের যত দ্রুত সম্ভব রুশ গ্যাস বন্ধ করতে হবে। ইউরোপ অর্থনৈতিক পতনের একটি বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী জোনাস গাহর স্টোর বলেন, নরডিক দেশগুলোর বায়ু ও সৌরসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন বাড়াতে হবে। আমরা সবাই জ্বালানির বর্ধিত দামের সঙ্গে লড়াই করছি। বৈঠকে ফিনিশ প্রধানমন্ত্রী সান্না মারিন বলেন, শীতকাল সামনে রেখে আমাদের জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে। আমাদের নাগরিকদের বিষয়টি অনুধাবন করে জ্বালানি সাশ্রয়ে মনোযোগী হতে হবে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা ছাড়া এ সংকট মোকাবেলা কঠিন হবে বলেও মত প্রকাশ করেন তিনি।
ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর থেকে রাশিয়ার কয়লা ও জ্বালানি তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় ইউরোপীয় ইউনিয়ন। যদিও গ্যাসের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়নি। কারণ ২৭টি দেশ কারখানার কর্মকাণ্ড চালানো, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও ঠাণ্ডা থেকে বাঁচতে বাড়ি উষ্ণ রাখার জন্য রাশিয়ার গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল। তবে এর জবাবে গ্যাস সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে রাশিয়া।








