আন্তর্জাতিক বাজারে গত সপ্তাহের লেনদেনের শেষদিনে স্বর্ণের দাম ১ শতাংশের বেশি কমেছে। সম্প্রতি মূল্যবান ধাতুটির দাম রেকর্ড সর্বোচ্চে পৌঁছানোর পর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে মুনাফা তুলে নেয়ার প্রবণতা তৈরি হয়েছে। একই সময় মধ্যপ্রাচ্যে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা কমার কারণে আপৎকালীন বিনিয়োগ হিসেবে চাহিদা কমেছে স্বর্ণের। এসবের প্রভাবে শুক্রবার বিশ্ববাজারে সাপ্তাহিক লেনদেনের শেষ দিনে স্বর্ণের দাম কমেছে। খবর রয়টার্স।
স্পট মার্কেটে এদিন স্বর্ণের দাম কমেছে দশমিক ৫ শতাংশ। প্রতি আউন্সের মূল্য নেমেছে ৪ হাজার ৫৯২ ডলার ২৯ সেন্টে। যদিও এদিন বেচাকেনার এক পর্যায়ে মূল্যবান ধাতুটির দাম আউন্সপ্রতি ৪ হাজার ৫৩৬ ডলার ৪৯ সেন্টে পৌঁছেছিল।
এছাড়া গত সপ্তাহের লেনদেনের শেষদিনে ফেব্রুয়ারিতে সরবরাহের জন্য প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ছিল ৪ হাজার ৫৯৫ ডলার ৪০ সেন্ট, যা আগের দিনের তুলনায় দশমিক ৬ শতাংশ কম।
কমোডিটি ব্রোকার কোম্পানি মারেক্সের বিশ্লেষক এডওয়ার্ড মেইর বলেন, ‘সপ্তাহব্যাপী স্বর্ণের দাম দ্রুত বৃদ্ধির পর ব্যবসায়ীদের মধ্যে মুনাফা তুলে নেয়ার প্রবণতা তৈরি হয়েছে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমায় স্বর্ণ ও অন্যান্য ধাতুর দাম কমেছে।’
মধ্যপ্রাচ্যে ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়ে এসেছে। ইরানে প্রতিবাদ কর্মসূচি কমেছে। পাশাপাশি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অপেক্ষা ও পর্যবেক্ষণের কৌশল গ্রহণ করেছেন। অন্যদিকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন মধ্যস্থতা করে উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা করেছেন।
বাণিজ্য খাতে যুক্তরাষ্ট্র ও তাইওয়ান বৃহস্পতিবার একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে। এতে তাইওয়ানের অনেক সেমিকন্ডাক্টর রফতানিতে শুল্ক কমানো হয়েছে। পাশাপাশি নতুন চুক্তির কারণে তাইওয়ান থেকে নতুন পুঁজির বিনিয়োগ সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রে আসবে। তবে এটি চীনের সঙ্গে নতুন রাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা, যা সামনের দিনগুলোয় স্বর্ণের দামে প্রভাব ফেলতে পারে।
এডওয়ার্ড মেইর জানান, চলতি বছরের মধ্যে স্বর্ণের দাম আউন্সপ্রতি ৫ হাজার ডলারে পৌঁছতে পারে।
স্পট মার্কেটে গত শুক্রবার রুপার দাম ২ দশমিক ৯ শতাংশ কমে আউন্সপ্রতি ৮৯ ডলার ৬৫ সেন্টে পৌঁছে। তবে ধাতুটির দাম গত সপ্তাহে বেড়েছে ১২ শতাংশের বেশি।
এ সময় স্পট মার্কেটে প্লাটিনামের দাম কমেছে ৩ দশমিক ৩ শতাংশ। প্রতি আউন্সের মূল্য নেমেছে ২ হাজার ৩৩০ ডলার ৬৭ সেন্ট। আর প্যালাডিয়ামের দাম দশমিক ৬ শতাংশ কমে আউন্সপ্রতি ১ হাজার ৭৯০ ডলার ৭৮ সেন্টে নেমেছে।








