সিরাজগঞ্জ
সদর উপজেলার পাইকপাড়ায় যমুনা নদীর তীর ঘেঁষে দেশের বৃহত্তম শিল্প পার্কের অবস্থান। নদী, রেল ও সড়কপথের সুবিধা
সংবলিত এ পার্কের নির্মাণ
শুরু হয় ২০১০ সালের
মাঝামাঝিতে। এরপর চার বছরের কাজ গড়িয়েছে ১৪ বছরে। এখন
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চলতি মাসেই উদ্বোধন হতে যাচ্ছে সিরাজগঞ্জ বিসিক শিল্প পার্ক।
৪০০ একর জায়গার ওপর এ শিল্প পার্ক নির্মাণের উদ্যোগ নেয় শিল্প মন্ত্রণালয়। এখানকার ৮২৯টি প্লটে ৫৭০টি প্রতিষ্ঠানের স্থাপনা বসার কথা রয়েছে। এতে প্রায় এক লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। কিন্তু দফায় দফায় সময় বৃদ্ধির সঙ্গে বেড়েছে প্রকল্প ব্যয়। ৩৭৮ কোটি ৯২ লাখ টাকার প্রকল্প ব্যয় এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭১৯ কোটি ২১ লাখ টাকা।
সম্প্রতি বণিক বার্তাকে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) চেয়ারম্যান ড. সঞ্জয় কুমার ভৌমিক বলেন, ‘বিসিক শিল্প পার্ক প্রকল্পের সময় আর বৃদ্ধি করা হবে না। উদ্বোধনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটি সারসংক্ষেপ যাচ্ছে। জুলাইয়ের শেষের দিকে এর উদ্বোধন হতে পারে।’
সিরাজগঞ্জ বিসিক কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রকল্পটি ২০১৪ সালের জুনের মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ্য ছিল। কিন্তু প্রথম সংশোধনীর সময় মেয়াদ এক বছর বাড়ানো হয়। এরপর ব্যয় বৃদ্ধি ছাড়া প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ে আরো এক বছর। দ্বিতীয় ও তৃতীয় সংশোধনীর সময়ও এক বছর করে মেয়াদ বাড়ে। ব্যয় বৃদ্ধি ছাড়া এরপর দুই দফায় মেয়াদ বাড়ানো হয় দুই বছর। সর্বশেষ সপ্তমবারে ব্যয় বৃদ্ধি ছাড়া এক বছরের মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব অনুমোদন করে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়।
জানা গেছে, ২০২২ সালের ২৫ নভেম্বর তৎকালীন শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় শিল্প পার্কের কাজ ২০২৩ সালের জুনের মধ্যে শেষ করতে নির্দেশ দেন তিনি। তবে নির্ধারিত সময়ে প্লট বরাদ্দ দেয়ার প্রক্রিয়াসহ অন্যান্য কাজ সম্পন্ন শেষ করতে না পারায় ২০২৩ সালের ১২ সেপ্টেম্বর রুগ্ণ প্রকল্প হিসেবে মেয়াদ বৃদ্ধির অনুমোদন দেয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। ফলে সপ্তম দফায় আরো এক বছর সময় বাড়িয়ে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়।
সংশ্লিষ্টদের দাবি জমি অধিগ্রহণে দেরি, ঠিকাদারের গাফিলতি, কভিড-১৯ মহামারীসহ নানা প্রতিকূলতার কারণে প্রকল্প বাস্তবায়নে দেরি হয়েছে।
পার্কের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সিরাজগঞ্জ বিসিক শিল্প পার্কের সহকারী প্রকৌশলী হিরণ্ময় বর্ধন বলেন, ‘সর্বশেষ বর্ধিত সময়ে সব কাজ শেষ করা হয়েছে। এখন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার জন্য প্লট বরাদ্দের আবেদন আহবান প্রক্রিয়ায় যাওয়া হবে।’
ব্যয় বৃদ্ধি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এ প্রকল্পের মূল অনুমোদিত ব্যয় ছিল ৩৭৮ কোটি ৯২ লাখ টাকা। এরপর সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পটির প্রথম সংশোধনীর সময় ১১১ কোটি টাকা ব্যয় বাড়িয়ে করা হয় ৪৮৯ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। দ্বিতীয় সংশোধনীতে এসে ফের ১৩৮ কোটি ১০ লাখ টাকা বাড়িয়ে মোট ব্যয় ধরা হয় ৬২৮ কোটি ১০ লাখ টাকা। পরে তৃতীয় সংশোধনীর সময় আবারো ৯১ কোটি ১১ লাখ টাকা বৃদ্ধি করে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৭১৯ কোটি ২১ লাখ টাকা।’
বিসিক সিরাজগঞ্জের সহকারী পরিচালক জাফর বায়েজিদ বলেন, ‘নির্দিষ্ট সময়ে প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণ করতে না পারায় কাজ শুরু হতেই দেরি হয়। এ প্রকল্পের জন্য ৪০০ একর জমি ২০১৪ সালে বুঝে পাওয়া যায়। এরপর পরিবেশ অধিদপ্তর, পানি উন্নয়ন বোর্ডের অনুমোদনসহ বিভিন্ন দপ্তরের প্রয়োজনীয় অনুমোদন সংগ্রহ করতে অনেকটা সময় চলে যায়।’
এদিকে দ্রুত বিসিক শিল্প পার্কে শিল্প স্থাপনের পরিবেশ তৈরির দাবি জানিয়ে সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট আবু ইউসুফ সূর্য বলেন, ‘শিল্প পার্কটি নির্মাণ হলে এ অঞ্চলের প্রায় এক লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে। কিন্তু দীর্ঘদিনেও কাজ সমাপ্ত না হওয়ায় এর সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এলাকার মানুষ।’
২০১০ সালে প্রকল্প নেয়া হলেও সব অনুমোদন প্রাপ্তি সাপেক্ষে ২০১৮ সাল থেকে মাটি ভরাটের কাজের মধ্য দিয়ে মূলত প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। এ কাজে ১৩টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যুক্ত রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নির্মাণসামগ্রীর দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেকেই ঠিকমতো কাজ না করায় প্রকল্প বাস্তবায়নে দেরি হওয়ার অন্যতম কারণ। তবে এজন্য নিয়মমাফিক দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানাও করা হয়েছে।










