চলতি মৌসুমে যশোরাঞ্চলের ছয় জেলার ৬ হাজার ৩৪২ হেক্টর জমিতে রসুন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি বিভাগ। এ থেকে প্রায় ৫৯ হাজার টন রসুন উৎপাদন হবে বলে প্রত্যাশা করছেন কৃষি কর্মকর্তারা। তবে আবাদি জমির পরিমাণ ও উৎপাদন উভয়ই আরো বাড়তে পারে বলে মনে করেন তারা।

গত মৌসুমে ভালো দাম পাওয়ায় এ বছরও রসুন চাষে আগ্রহী হয়েছেন কৃষকরা। দেশের আবহাওয়ায় কার্তিক মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে হালকা শীতের হাওয়া বইতে শুরু করেছে। এটিকে রসুন চাষের উপযুক্ত সময় হিসেবে বিবেচনা করে এরই মধ্যে বীজ বপন করতে শুরু করেছেন অনেকে।

যশোর কৃষি অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালকের অফিস সূত্রে জানা গেছে, অঞ্চলটিতে এ বছর মোট ৬ হাজার ৩৪২ হেক্টর জমি রসুন চাষের আওতায় আসবে। এর মধ্যে যশোর জেলায় ৬০০ হেক্টর, ঝিনাইদহে ২ হাজার ৫০৭ হেক্টর, মাগুরায় ৯৫৫ হেক্টর, কুষ্টিয়ায় ১ হাজার ৫০০ হেক্টর,  চুয়াডাঙ্গায় ২৫৫ হেক্টর ও মেহেরপুরে ৫২৫ হেক্টর জমিতে রসুন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব জমি থেকে মোট ৫৮ হাজার ৮৮৩ টন ফলন প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

খুলনা বিভাগের সর্বোচ্চ পেঁয়াজ ও রসুন উৎপাদনকারী এলাকা হিসেবে বিবেচিত ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলা। এখানকার সোন্দাহ, পাইকপাড়া ও আউশিয়া গ্রামের চাষীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ফসল ওঠার ঠিক পরপর না হলেও সারা বছরই দেশে মসলাজাতীয় পণ্যটির চাহিদা থাকে। তাই কোনো না কোনো সময় তারা ভালো দাম পেয়ে যান। ন্যায্যমূল্য পাওয়ায় এবার তারা আবাদ বাড়িয়ে দিচ্ছেন।

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার মাটিকুমড়া গ্রামের শহর আলী বলেন, ‘‌এবার দুই বিঘা জমিতে রসুন চাষ করেছি। আশা করছি ভালো ফলন পাব।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যশোর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক আবু হোসেন জানান, এবার পেঁয়াজ ও রসুন আবাদ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যেতে পারে। দেশে উৎপাদন ভালো হলে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয়ে পেঁয়াজ ও রসুন আমদানির পরিমাণ কমে আসবে। এরই মধ্যে কৃষকদের স্বার্থ সংরক্ষণে সব ধরনের পরামর্শ ও সহযোগিতা দিতে অধিদপ্তরের মাঠপর্যায়ের সব কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তাছাড়া এ দুটি ফসল আবাদে সরকার প্রণোদনা অব্যাহত রেখেছে বলেও জানান তিনি।