সিলেট থেকে ইউরোপ, আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যে পণ্য রফতানি করতে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নির্মাণ করা হয়েছে অত্যাধুনিক কার্গো টার্মিনাল। কিন্তু যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের অনুমোদিত ওয়্যারহাউজ প্যাকেজিং ব্যবস্থা না থাকায় সিলেট থেকে কৃষিপণ্য রফতানি করতে পারছেন না রফতানিকারকরা। এতে বছরে অন্তত ১০০ কোটি টাকার সবজি পণ্য সরাসরি রফতানি করা সম্ভব হচ্ছে না বলে দাবি সিলেটের রফতানিকারকদের। তারা বলছেন, সাবেক কৃষিমন্ত্রী সিলেট সফর করে ‘ওয়্যারহাউজ’ নির্মাণের ঘোষণা দিলেও কার্যত কোনো পদক্ষেপই নেয়া হয়নি। স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বলছে মন্ত্রণালয় থেকে এ ব্যাপারে কোনো নির্দেশনা বা চিঠি ইস্যু হয়নি। 

ব্যবসায়ীরা বলছেন, এ অঞ্চলের শাকসবজি, আনারস, লেবুজাতীয় ফল, সাতকড়া, পান, ফ্রোজেন ফিশ, সুগন্ধি চাল, বেতের আসবাবপত্র, নকশিকাঁথা এবং কুটির শিল্পের বিশাল বাজার রয়েছে ইউরোপ, আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যে। কিন্তু অনুমোদিত ওয়্যারহাউজ প্যাকেজিং ব্যবস্থা না থাকায় এ রফতানি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এমন পরিপ্রেক্ষিতে ২০২২ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি সিলেটে একটি মতবিনিময় সভায় তৎকালীন কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক দ্রুততম সময়ে ওয়্যারহাউজ ও ল্যাব স্থাপনের ঘোষণা দেন মন্ত্রী। ঘোষণার পর প্রায় দুই বছর কেটে গেলেও কার্যত কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। 

কৃষি বিভাগেরই একটি সূত্র জানায়, এয়ারপোর্টের পাশেই কৃষি বিভাগের মালিকানাধীন পর্যাপ্ত ভূমি রয়েছে। নতুন প্রকল্প হাতে নিলে সেখানেই ওয়্যারহাউজ নির্মাণ করা সম্ভব। তবে এজন্য কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে প্রকল্প গ্রহণপূর্বক নির্দেশনার ব্যবস্থা নিতে হবে। 

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সিলেটের অতিরিক্ত উপপরিচালক মোহাম্মদ আনিছুজ্জামান বলেন, সিলেটে ওয়্যারহাউজ নির্মাণ প্রকল্পটি আলোচনার পর্যায়ে আছে। ব্যবসায়ীরা দাবি জানিয়ে আসছেন, কিন্তু সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কোনো জায়গা থেকে স্থানীয় কৃষি বিভাগকে এ বিষয়ে করণীয় সম্পর্কিত কিছু নির্দেশনা দেয়া হয়নি। 

রফতানিকারকরা বলছেন, বর্তমানে শাকসবজি ও ফলমূল রফতানির জন্য তাদের ঢাকার শ্যামপুরে যেতে হচ্ছে। কারণ যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের অনুমোদিত ওয়্যারহাউজের মাধ্যমে প্যাকেজিং করে কোয়ারেন্টিন সার্টিফিকেট নেয়ার এ সুবিধা একমাত্র শ্যামপুরেই আছে। ফলে ইউরোপ, আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যে সিলেট অঞ্চলে উৎপাদিত পণ্যের বিশাল বাজার থাকলেও সেটাকে কাজে লাগানো যাচ্ছে না। এছাড়া এ অঞ্চলে অনুমোদিত ওয়্যারহাউজ প্যাকেজিং ব্যবস্থা থাকলে সিলেট বিভাগে উৎপাদিত পণ্যের বাইরেও নরসিংদী, ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ বিভিন্ন জেলার রফতানিকারকরা এ বিমানবন্দর ব্যবহার করতে পারবেন।

সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক মুজিবুর রহমান মিন্টু ও জালালাবাদ ভেজিটেবল অ্যান্ড ফ্রোজেন ফিশ এক্সপোর্ট গ্রুপের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান জানান, যে সময়ে সিলেট থেকে সবজিপণ্য ঢাকার শ্যামপুরে প্যাকিং হাউজে নিয়ে যাওয়া হয়, ওই সময়ের মধ্যে সিলেট থেকে যুক্তরাজ্যে নিয়ে যাওয়া সম্ভব। এর জন্য সিলেটে দ্রুততম সময়ে প্যাকেজিং হাউজ নির্মাণ প্রয়োজন। কিন্তু সাবেক কৃষিমন্ত্রীও দ্রুততম সময়ে ওয়্যারহাউজ নির্মাণ করে দেয়ার আশ্বাসের দুই-আড়াই বছর পেরিয়ে গেলেও কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। 

ওসমানী বিমানবন্দরের পরিচালক হাফিজ আহমদ জানান, সিলেট থেকে রফতানি কার্যক্রম শুরুর আগে ওয়্যারহাউজটা নির্মাণ জরুরি। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ রফতানি বিষয়ে সেবা দিতে প্রস্তুত রয়েছে। সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি তাহমিন আহমেদ বলেন, ‘নতুন কৃষিমন্ত্রীর কাছে এরই মধ্যে আমরা ওয়্যারহাউজ নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা জানিয়েছি। আশা করি তার সুদৃষ্টি পেলে সিলেটে ওয়্যারহাউজ নির্মাণের দাবি বাস্তবায়ন হবে।’