চীন বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ ভুট্টা উৎপাদনকারী দেশ। তবে অভ্যন্তরীণ চাহিদা বেশি থাকায় দেশটি প্রতি বছর আন্তর্জাতিক বাজার থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ভুট্টা আমদানি করে। চলতি ২০১৯-২০ মৌসুমে দেশটি কৃষিপণ্যটির আমদানি প্রাক্কলন বাড়িয়েছে। মূলত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধ নিরসনে কার্যকর আলোচনা ও প্রথম পর্যায়ের চুক্তি বাস্তবায়নের জের ধরে দেশটিতে ভুট্টা আমদানি বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। খবর রয়টার্স ও সিনহুয়া।
ভুট্টাসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্যের বাজার পরিস্থিতি নিয়ে সম্প্রতি একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে চীনের কৃষি মন্ত্রণালয়। এ প্রতিবেদনে ভুট্টা আমদানি বাড়ানোর সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে চীন। আগের এক প্রতিবেদনে চীনের কৃষি মন্ত্রণালয় পূর্বাভাস দিয়েছিল, ২০১৯-২০ মৌসুমে দেশটিতে সব মিলিয়ে ৩০ লাখ টন ভুট্টা আমদানি হতে পারে। তবে বাণিজ্যযুদ্ধ নিরসনের উদ্যোগে দৃশ্যমান অগ্রগতি চীনা আমদানিকারকদের আশাবাদী করে তুলেছে। এর জের ধরে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এবার মৌসুমে চীনে ভুট্টার আমদানি প্রাক্কলন আরো ১০ লাখ টন বাড়িয়ে ৪০ লাখ টনে উন্নীত করা হয়েছে।
গত বছরজুড়ে চলমান বাণিজ্যযুদ্ধ চীন-যুক্তরাষ্ট্রের ভুট্টা বাণিজ্যকে কার্যত স্থবির করে দিয়েছিল। তবে বিরোধ নিরসনে উদ্যোগ নিয়েছে দুই দেশ। সই হয়েছে প্রথম পর্যায়ের বাণিজ্য চুক্তি। এতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা ভুট্টার ওপর থেকে বাড়তি শুল্কের বোঝা সরিয়ে নিয়েছে বেইজিং।
এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে চীনের বাজারে ভুট্টা আমদানির পথ প্রশস্ত হয়েছে। কারণ বাড়তি শুল্ক না থাকলে যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলনামূলক কম দামে ভুট্টা আমদানি করতে পারবেন চীনা আমদানিকারকরা। এতে আর্থিক লাভ হবে বেশি। বিষয়টি বিবেচনায় এবার মৌসুমে কৃষিপণ্যটির আমদানি বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছেন চীনা আমদানিকারকরা।
তবে আমদানি বাড়ালেও ভুট্টার অভ্যন্তরীণ ব্যবহারের প্রাক্কলনে লাগাম টেনেছে চীনের কৃষি মন্ত্রণালয়। দেশটির সরকারি পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০১৯-২০ মৌসুমে দেশটিতে ভুট্টার ব্যবহার দাঁড়াতে পারে ৮ কোটি ২৫ লাখ টনে, যা আগের প্রাক্কলনের তুলনায় ২০ লাখ টন কম।









