সুইজারল্যান্ড, নরওয়ে, আইসল্যান্ড ও লিচেনস্টাইনের সঙ্গে ভারতের প্রথম বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদনের মধ্য দিয়ে ১৬ বছরের আলোচনার অবসান ঘটতে চলেছে। ১৪০ কোটি ভোক্তার বিশাল বাজারে সহজে প্রবেশাধিকারের বিনিময়ে ইউরোপিয়ান ফ্রি ট্রেড অ্যাসোসিয়েশনের (ইএফটিএ) দেশগুলো ভারতে বিনিয়োগে সম্মত হয়েছে। এমন তথ্য উঠে এসেছে ইউরোজোনের সাম্প্রতিক প্রকাশিত প্রতিবেদনে। খবর ইউরো নিউজ।
মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির বিনিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত হলেও চুক্তির চূড়ান্ত শর্তাবলি নিয়ে এখনো আলোচনা চলছে। চুক্তিটির সম্পর্কে অবগত সূত্র জানায়, আগামী ১৫ বছরে মোট বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ১০ হাজার ডলারে। তবে সঠিক বিনিয়োগের পরিমাণ এখনো চূড়ান্তভাবে ঘোষণা করা হয়নি। আগামী এপ্রিলে শুরু হতে যাওয়া ভারতের সাধারণ নির্বাচনের আগে চুক্তিটি চূড়ান্ত করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
চুক্তিটির বিষয়ে সুইস অর্থ মন্ত্রণালয় সুনির্দিষ্টভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ না করলেও নিশ্চিত করেছে তারা পেটেন্ট সুরক্ষা ও বিনিয়োগ প্রচারের মতো বিষয়ে ঐক্যমতে পৌঁছেছেন। ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ইএফটিএ দেশগুলোর সঙ্গে ভারতের বেশির ভাগ বাণিজ্য সুইজারল্যান্ড থেকে এসেছিল। গত অর্থবছরে সুইজারল্যান্ডের সঙ্গে ভারতের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৭১৪ কোটি ডলার। আর পুরো ইএফটিএ গ্রুপের সঙ্গে ভারতের মোট বাণিজ্য ছিল ১ হাজার ৮৬৬ কোটি ডলার।
নতুন চুক্তিটি প্রাথমিকভাবে বেসরকারি উদ্যোগ থেকে ভারতে বিনিয়োগ আনবে। প্রকল্পগুলো থেকে ভারতে ১০ লাখেরও বেশি কর্মসংস্থান তৈরি হবে। অন্যদিকে ইএফটিএ চুক্তি ছাড়াও ভারত যুক্তরাজ্যের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা করছে। তবে চলতি বছরে ভারতের নির্বাচনের আগে এ আলোচনার কোনো ফলাফল আসবে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। আর ইইউ ও অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গেও ভারতের বাণিজ্যবিষয়ক আলোচনা চলছে।
এছাড়া ভারত সম্প্রতি সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে একটি বিনিয়োগ চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আবুধাবি বিনিয়োগ কর্তৃপক্ষ গুজরাট ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স টেক সিটিতে ৪০০-৫০০ কোটি ডলারের তহবিল প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি করেছে।
ভারতের দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বার্ষিক ৮ শতাংশেরও বেশি বলে পূর্বাভাস করা হয়। এটি বিশ্বের দ্রুততম ক্রমবর্ধমান বৃহৎ অর্থনীতিগুলোর মধ্যে একটি। আর্থিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান এসঅ্যান্ডপি গ্লোবালের পূর্বাভাস করেছে, ২০৩০ সালের মধ্যে ভারত তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হতে পারে।










