টানা দুই বছর কভিড-১৯ মহামারীতে স্থবির সময় চলার পর ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে উড়োজাহাজ পরিবহন খাত। সরুবডির উড়োজাহাজের চাহিদা আগেই পুনরুদ্ধার হলেও চাহিদা কম ছিল ওয়াইডবডি উড়োজাহাজের। সম্প্রতি ফিরেছে ওয়াইডবডি উড়োজাহাজের চাহিদাও। এরই মধ্যে বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার আবারো ফিরেছে বাজারে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
গত বছরের মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রথম ড্রিমলাইনার সরবরাহ করে। বিশ্লেষকরা বলছেন, বাজারে স্থবিরতার পর ওয়াইডবডি উড়োজাহাজের চাহিদা আবারো ফিরেছে। পূর্ব এশিয়া থেকে গালফ অঞ্চল পর্যন্ত বেশ কয়েকটি উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থা বহরে আবারো ওয়াইডবডি উড়োজাহাজ যুক্ত করছে। এরই মধ্যে সৌদি আরব উল্লেখযোগ্য হারে ওয়াইডবডি উড়োজাহাজের ক্রয়াদেশের বিষয়ে আলোচনা করছে।
এদিকে জ্বালানি তেলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে অর্থনীতিতে বৈচিত্র্য আনার জন্য ভিশন ২০৩০ হাতে নিয়েছে সৌদি সরকার। এর জের ধরে পর্যটন ও এভিয়েশন খাতে বিনিয়োগ করছে দেশটি।
তাইওয়ানের চায়না এয়ারলাইনস বহরে ২২টি এয়ারবাস এ৩৩০ উড়োজাহাজ যুক্ত করার পরিকল্পনা নিয়েছে। এছাড়া শিগগিরই ২০টি এ৩৩০নিও ওয়াইডবডি উড়োজাহাজ কেনার ঘোষণা দিতে যাচ্ছে মালয়েশিয়ান এয়ারলাইনস। প্রতিষ্ঠানটি এর প্রায় অর্ধেক উড়োজাহাজই সরাসরি এয়ারবাসের থেকে কিনে নেবে।
এ বিষয়ে এয়ারক্যাপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অ্যাংগাস কেলি বলেন, আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি সীমান্তের বিধিনিষেধ শিথিল হলে আমরা দেশীয় বাজারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও একই রকমভাবে চাহিদা পুনরুদ্ধারের চিত্র দেখতে পাব। ওয়াইডবডি উড়োজাহাজের যে চাহিদা এরই মধ্যে আমরা দেখছি, এটা পরিষ্কার যে এয়ালাইনসগুলোও এ বিষয়ে সন্তুষ্ট।
চলতি বছরের শুরু থেকেই বিদেশ ভ্রমণ বেড়েছে। বেড়েছে যাত্রী ভিড়ও। যদিও ইন্টারন্যাশনাল এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশন (আইএটিএ) বলছে, যাত্রী ভিড় কভিডপূর্ব স্তরে পৌঁছতে এখনো আরো সময় লাগবে।
গত মাসে ফার্নবরো এয়ার শোতে বোয়িংয়ের জ্যেষ্ঠ ভাইস প্রেসিডেন্ট ইহসান মুনির বলেন, আমরা এখন যা দেখছি, তা নিশ্চিতভাবেই নির্দিষ্ট কয়েকটি আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদার পুনরুদ্ধার। ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে এবং মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে তুমুল চাহিদা দেখা যাচ্ছে। সুতরাং বিদেশ ভ্রমণের পরিকল্পনায় আবারো মশগুল যাত্রীরা।
বোয়িংয়ের বড় দুটি ইঞ্জিন সংবলিত ৭৭৭এক্স উড়োজাহাজের সরবরাহকাল পাঁচ বছর পিছিয়ে ২০২৫ সাল নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া বোয়িং ৭৮৭ উড়োজাহাজ সরবরাহও এক বছরের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। এ বিষয়ে এভিয়েশন উপদেষ্টা বার্ট্রান্ড গ্রাবোস্কি বলেন, ওয়াইডবডি উড়োজাহাজের চাহিদা এখন তুঙ্গে। তবে উৎপাদন ও উন্নয়ন বিলম্বের কারণে তা সহজলভ্য হচ্ছে না। তাই এটি এখনো কভিডপূর্ব স্তরে পৌঁছয়নি। বোয়িং ৭৭৭এক্সের সরবরাহ পিছিয়েছে। এছাড়া প্রকল্পটির নিজস্ব সমস্যাও রয়েছে। অন্যদিকে বোয়িং ৭৮৭ সহজলভ্য নয়। এ৩৫০ উড়োজাহাজের সরবরাহ এয়ারবাস নির্দিষ্ট সময়ে দিতে পারবে কিনা তা নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এদিকে এর বিকল্প হয়ে দাঁড়িয়েছে চীন। গত বছরের জুলাইয়ে বোয়িংয়ের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ক্রয়াদেশ দেয় দেশটি। এর অধিকাংশ ন্যারোবডি মডেলের উড়োজাহাজের ক্রয়াদেশ, যায় এয়ারবাসের কাছে। তবে ওয়াইডবডি উড়োজাহাজের ক্রয়াদেশও ছিল।
গত বছরের সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য সচিব জিনা রাইমন্ডো বলেন, বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ কিনতে দেশীয় এয়ারলাইনসগুলোকে নিষেধ করছে চীনা সরকার।








