চলতি বছরের জুনে বৈশ্বিক উড়োজাহাজ কার্গোর চাহিদা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬ দশমিক ৪ শতাংশ কমেছে। সম্প্রতি ইন্টারন্যাশনাল এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশন (আইএটিএ) এ তথ্য প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের জের ধরে পরিবহন সক্ষমতা সীমিত হয়ে এসেছে। পাশাপাশি নতুন রফতানির ক্রয়াদেশও নিম্নমুখী ছিল।

দ্য ন্যাশনাল নিউজের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বছরের প্রথমার্ধে কার্গো পরিবহন চাহিদা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪ দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে। তবে চাহিদা কভিডপূর্ব ২০১৯ সালের একই সময়ের তুলনায় ২ দশমিক ২ শতাংশ বেশি ছিল।

এ বিষয়ে আইএটিএর মহাপরিচালক উইলি ওয়ালশ বলেন, কভিডপূর্ব সময়ের থেকে কার্গোর চাহিদা ঊর্ধ্বমুখী ছিল। এটি নিঃসন্দেহে ইতিবাচক দিক। বিশেষত ইউক্রেন সংকটের জের ধরে সরবরাহ ব্যবস্থার প্রতিবন্ধকতা ও সক্ষমতা হ্রাসের সময় এ হার উল্লেখযোগ্য। বর্তমান অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা কার্গো চাহিদায় খুব বেশি প্রভাব ফেলতে পারেনি। তবে বছরের দ্বিতীয়ার্ধে উন্নয়নগুলো সতর্কভাবে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।

কভিড-১৯ মহামারীতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় উড়োজাহাজ শিল্প খাত। এ সময় ভরসার জায়গা ছিল কার্গো পরিবহন ব্যবসা। এরই মধ্যে ইতিহাদ এয়ারওয়েজ এয়ারবাসের কাছ থেকে সাতটি এ৩৫০ উড়োজাহাজ কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এ বিষয়ে আবুধাবিভিত্তিক উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থাটি একটি চিঠি স্বাক্ষর করেছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সিঙ্গাপুর এয়ারশোয়ে কার্গো উড়োজাহাজের ক্রয়াদেশের প্রতিশ্রুতি চিঠিটি স্বাক্ষর করা হয়। 

চলতি বছরের জুনে আফ্রিকান উড়োজাহাজের কার্গোর পরিমাণ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে। সক্ষমতা যোগ হয়েছে আফ্রিকান উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থাগুলোর। সক্ষমতা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১০ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি ছিল। বছরের প্রথমার্ধে আফ্রিকান উড়োজাহাজ সংস্থাগুলোর চাহিদা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়েছে। এক বছরে সক্ষমতাও বেড়েছে ৬ দশমিক ৯ শতাংশ।

এদিকে কার্গোর পরিমাণ কমেছে মধ্যপ্রাচ্যের উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থাগুলোর। এ বছরের জুনে ওই অঞ্চলের কার্গোর পরিমাণ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১০ দশমিক ৮ শতাংশ কমেছে। চলতি বছরের জুনে মধ্যপ্রাচ্যের উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থাগুলোর সক্ষমতা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে। আইএটিএ জানায়, এ বছরের প্রথম ছয় মাসে আঞ্চলিক উড়োজাহাজ সংস্থাগুলোর চাহিদা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৯ দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে। এটিই বছরের প্রথমার্ধে সব অঞ্চলের মধ্যে দুর্বলতম চাহিদা।

বিশেষজ্ঞরা জানান, কভিড-১৯ মহামারীর প্রকোপ এখনো পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এতে ইন্ধন জুগিয়েছে। রাশিয়ার আকাশসীমা ব্যবহার করতে অসম্মতি জানিয়েছে অনেকেই।