ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর জ্বালানিমন্ত্রীরা অবশেষে গ্যাসের সর্বোচ্চ মূল্যসীমা (প্রাইস ক্যাপ) বেঁধে দিতে রাজি হয়েছেন। চেক রিপাবলিকের এক মুখপাত্র এ তথ্য জানিয়েছেন। খবর রয়টার্স ও আরটি।

গুরুত্বপূর্ণ এ সিদ্ধান্তে একমত হওয়ার আগে কয়েক সপ্তাহ ধরে আলাপ-আলোচনা চলছিল। বিদ্যমান জ্বালানি সংকট সমাধানে উঠে আসে নানা মত। প্রাইস ক্যাপ ইস্যুতে বিভক্তিও তৈরি হয় ব্লকটির মধ্যে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সর্বশেষ বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পাইকারিতে প্রতি ঘণ্টা মেগাওয়াট গ্যাসের দাম ১৮০ ইউরো অতিক্রম করলেই প্রাইস ক্যাপ কার্যকর হবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দেশগুলো সোমবার এ দাম নির্ধারণ করেছে।

আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। টানা তিনদিন যদি ডাচ টিটিএফ গ্যাসের দাম ১৮০ ইউরোর বেশি থাকে, তবেই এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হবে। কিন্তু প্রাথমিকভাবে প্রধান প্রধান এক্সচেঞ্জের বাইরে এ প্রাইস ক্যাপ প্রযোজ্য হবে না।

ইইউর কয়েকটি সূত্র জানায়, শুরুতে জার্মানি প্রাইস ক্যাপ নিয়ে সন্দিহান থাকলেও সোমবার দেশটি এর সমর্থনে ভোট দেয়। তবে প্রতিযোগিতামূলক বিশ্ববাজারে গ্যাস সরবরাহ আকৃষ্ট করতে ইউরোপের বর্তমান সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে দেশটি।

জার্মানিসহ আরো কয়েকটি দেশ এখনো প্রাইস ক্যাপ নিয়ে উদ্বিগ্ন। এক্ষেত্রে সর্বোচ্চ নিরাপদ পলিসি গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে দেশগুলো। পাশাপাশি প্রাইস ক্যাপের ফলাফল ভালো না হলে তা সঙ্গে সঙ্গে বাতিল করার দাবিও জানিয়েছে এসব দেশ।

প্রসঙ্গত, চলতি শীত মৌসুমের জন্য ইইউ দেশগুলোয় পর্যাপ্ত গ্যাস রয়েছে। তবে রাশিয়া সরবরাহ আরো কমিয়ে দিলে আগামী বছর ভয়াবহ গ্যাস সংকটে পড়তে পারে ব্লকটি। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) এ আশঙ্কার কথা জানিয়েছে। ব্যবহার কমিয়ে জ্বালানি সঞ্চয়ের জন্য সরকারগুলোকে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাত সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিতেও বলা হয়েছে।

চলতি বছর রাশিয়া ইইউর গ্যাস সরবরাহ কমিয়ে দিলেও ইউরোপ ভয়াবহ সংকট এড়াতে সক্ষম হয়েছে। শীত মৌসুমের শুরুতেই অঞ্চলটি ট্যাংকগুলোয় গ্যাসের সর্বোচ্চ মজুদ নিশ্চিত করেছে। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে আগাম প্রস্তুতি হিসেবে মজুদ বাড়ানোয় শীত মৌসুম নিয়ে উদ্বেগ নেই বললেই চলে। এক্ষেত্রে স্থিতিশীল আবহাওয়াও অঞ্চলটিতে সুবিধা দিচ্ছে। অন্যদিকে গ্যাসের উচ্চবাজারদরের কারণে পণ্যটির চাহিদাও কম।

এ বছর ইউরোপে গ্যাসের যে সংকট দেখা দিয়েছিল, তাতে বিপাকে পড়ে গৃহস্থালিগুলো। পারিবারিক বাজেটের একটি বড় অংশই ব্যয় করতে হয়েছে জ্বালানির পেছনে। গ্যাসের ব্যয় সামলাতে না পেরে অনেক শিল্প-কারখানা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে মজুদ ব্যাপক হারে বাড়ানোর উদ্যোগ নেয় ইইউ। তাতে সাফল্যও আসে। তবে আগামী বছর পরিস্থিতি আরো খারাপ হবে বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা।

আইইএ বলছে, রাশিয়া এখনো যে ক্ষুদ্র পরিমাণ গ্যাস ইউরোপে সরবরাহ করছে তা যদি বন্ধ করে দেয় এবং কভিডসংক্রান্ত বিধিনিষেধ শিথিল হওয়ায় চীনে যদি আবারো গ্যাসের চাহিদা ঘুরে দাঁড়ায়, তবে আগামী বছর ইইউতে ২ হাজার ৭০০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের সংকট দেখা দেবে। গত বছর ব্লকটি ৪১ হাজার ২০০ কোটি ঘনফুট গ্যাস ব্যবহার করেছিল।

ব্রাসেলসে ইউরোপিয়ান কমিশন আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আইইএর নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরোল বলেন, এ সংকট ইউরোপের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।