ফার্স্ব ফাইন্যান্স লিমিটেডের সাবেক ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. তুহিন রেজা ডিপোজিট সংগ্রহের নামে অবৈধ ও বেআইনি কমিশন বাণিজ্য করেছেন, যা দুদকের করা এক অনুসন্ধান প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। অবৈধ বাণিজ্যের উদ্দেশে ওই প্রতিষ্ঠান থেকে ৮২ লাখ টাকা তুলে তা আত্মসাতের প্রমাণও মিলেছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপপরিচালক মো. গুলশান আনোয়ার প্রধানের করা অনুসন্ধানে। অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মামলার সুপারিশ করে একটি প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে কমিশনে। কমিশনের অনুমতি পেলে শিগগিরই তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হতে পারে বলে দুদক সূত্রে জানা গেছে।
দুদকের অনুসন্ধান প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফার্স্ট ফাইন্যান্স থেকে সংগৃহীত রেকর্ডপত্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২০ ও ২১ সালের বিভিন্ন সময়ে অফিশিয়াল উদ্দেশ্যে ডিপোজিট সংগ্রহের জন্য কমিশন হিসেবে রিকোয়েস্ট ফরম পূরণের মাধ্যমে বিভিন্ন অংকের টাকা উত্তোলন করা হয়। ফার্স্ট ফাইন্যান্সের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তার সহায়তায় এসব অর্থের মূল সুবিধাভোগী হয়েছেন তত্কালীন ভারপ্রাপ্ত এমডি মো. তুহিন রেজা।
ফার্স্ব ফাইন্যান্সের মোট ৮২ লাখ ৫০ হাজার টাকা পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন ব্যতিরেকে বেআইনিভাবে অসৎ উদ্দেশে আইনবহির্ভূত কমিশন বাণিজ্যের নামে উন্নয়ন খাত দেখিয়ে ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিজ ক্ষমতার অপব্যবহার করে একক কর্তৃত্বেই উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেন। ডিপোজিট সংগ্রহের জন্য অগ্রিম কমিশন হিসেবে ওই টাকা উত্তোলন করলেও এর বিপরীতে কোনো টাকা ডিপোজিট সংগ্রহ করতে পারেননি। ফলে অসৎ উদ্দেশ্যে পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহারপূর্বক প্রতারণার মাধ্যমে অপরাধমূলক বিশ্বাস ভঙ্গ করে নিজে লাভবান হয়েছেন ও অন্যকে লাভবান করেছেন।
অর্থ আত্মসাতের অভিযোগটি দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ৪০৯, ৪২০, ১০৯ ধারা ও ১৯৪৭ সনের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে এবং এ বিষয়ে মামলার সুপারিশসহ অনুসন্ধান প্রতিবেদন কমিশনে উপস্থাপিত হয়েছে।
বিভিন্ন অনিয়ম জালিয়াতির অভিযোগ আমলে নিয়ে একাধিক অনুসন্ধান চলমান রয়েছে তুহিন রেজার বিরুদ্ধে। ২০২১ সালের জানুয়ারিতে দুদকের জিজ্ঞাসাবাদেও হাজির হয়েছিলেন তিনি।










