গত বছরের শেষ প্রান্তিকে উবারের নিট মুনাফা বছরওয়ারি ১৪০ শতাংশ বেড়েছে। গ্রস বুকিং বাড়ার কারণে এ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে অতি পরিচিত অ্যাপভিত্তিক রাইডশেয়ারিং কোম্পানিটি। খবর দ্য ন্যাশনাল।
২০২৩ সালের শেষ প্রান্তিকে প্রতিষ্ঠানটির নিট আয় ছিল ১৪০ কোটি ডলার। আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ৫৯ কোটি ৫০ লাখ ডলার। এছাড়া পরিচালন আয় দাঁড়ায় ৬৫ কোটি ২০ লাখ ডলার। আগের বছরের একই সময়ে কোম্পানিটি ১৪ কোটি ২০ লাখ ডলার লোকসানের সম্মুখীন হয়েছিল।
ক্যালিফোর্নিয়া-ভিত্তিক উবারের চতুর্থ প্রান্তিকে আয় বার্ষিক হিসেবে ১৫ শতাংশ বেড়ে ৯৯০ কোটি ডলারের বেশি হয়েছে। যদিও বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস ছিল ৯৭০ কোটি ডলার।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৩ অর্থবছরে উবারের নিট মুনাফা হয়েছে ১৯০ কোটি ডলার। জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর মেয়াদে আয় ১৭ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৩ হাজার ৭২৯ কোটি ডলার।
উবারের প্রধান নির্বাহী দারা খসরুশাহী বলেন, ‘২০২৩ সাল উবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বছর ছিল। বছরটি প্রমাণ করে যে আমরা শক্তিশালী ও লাভজনক প্রবৃদ্ধি চালিয়ে যেতে পারব। আমাদের গ্রাহকদের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।’
তিনি জানান, উবার প্লাটফর্ম ২০২৩ সালে দৈনিক গড়ে প্রায় ২ কোটি ৬০ লাখ ট্রিপ পরিচালনা করেছে।
উবারের মোবিলিটি ও ডেলিভারি বিভাগের সম্মিলিত আয় বছরওয়ারি ২২ শতাংশ বেড়ে চতুর্থ প্রান্তিকে ৮৭০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে।
কোম্পানিটির সর্বশেষ প্রান্তিকের মোট ট্রিপের পরিমাণ ছিল ২৬০ কোটি। অর্থাৎ প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ১১ লাখ ৬০ হাজার ট্রিপ পরিচালিত হয়েছে। মাসিক সক্রিয় গ্রাহক পৌঁছেছে ১৫ কোটি, বছরওয়ারি এ বৃদ্ধির হার ১৫ শতাংশ।
এসব তথ্য প্রকাশের পর বুধবার উবারের শেয়ার লেনদেন ১ দশমিক ৮৪ শতাংশ বেড়ে ৭৭ দশমিক ৭৭ ডলার হয়েছে। এদিন পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির বাজার মূলধন ছিল ১৪ হাজার ৭৬৯ কোটি ডলার।
কোম্পানির গ্রস বুকিং বছরওয়ারি ২২ শতাংশ বেড়ে চতুর্থ প্রান্তিকে ৩ হাজার ৭৬০ কোটি ডলারের বেশি হয়েছে, যা আগের প্রান্তিকের তুলনায় ৬ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি।
অক্টোবর-ডিসেম্বর সময়ের মধ্যে ডেলিভারি গ্রস বুকিং ১৯ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৭০০ কোটি ডলার এবং মোবিলিটি বুকিং ২৯ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৯৩০ কোটি ডলার হয়েছে।
পণ্য বুকিং ইউনিটে রয়েছে পরিবহন, লজিস্টিক, সরবরাহ চেইন ও স্টোরেজ সলিউশন। এ খাতে বছরওয়ারি আয় ১৭ শতাংশ কমে প্রায় ১৩০ কোটি ডলার হয়েছে।
উবারের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা প্রশান্ত মহেন্দ্র-রাজাহ বলেন, ‘উবারের প্লাটফর্ম ব্যবহারের সুবিধা ও সুশৃঙ্খল বিনিয়োগের ফলে রেকর্ড ব্যস্ততা ও গ্রস বুকিং ত্বরান্বিত হয়েছে।’
পরিবেশবান্ধব যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে গত বছর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল উবার। সে হিসেবে ২০৪০ সালের মধ্যে একটি শূন্য-নির্গমন প্লাটফর্মে পরিণত হবে এ রাইডশেয়ারিং প্রতিষ্ঠান।










