জাপানের তালিকাভুক্ত উৎপাদনকারীদের নিট মুনাফা বেড়েছে। এপ্রিল থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের হিসাবে মুনাফা বৃদ্ধির হার ২০ শতাংশ। মূলত বিভিন্ন পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, গাড়ি ও যন্ত্রপাতির বিক্রি বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী অর্থনৈতিক পরিস্থিতি উৎপাদনকারীদের মুনাফা বাড়াতে সাহায্য করেছে। খবর নিক্কেই এশিয়া।
নিক্কেইর তথ্যানুযায়ী, ২০২৩ অর্থবছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে (এপ্রিল থেকে ডিসেম্বর) কোম্পানিগুলোর নিট মুনাফা ২১ শতাংশ বেড়ে ১২ দশমিক ২১ ট্রিলিয়ন ইয়েন বা মার্কিন মুদ্রায় ৮ হাজার ২৪০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। ২০১৭ সালে ৪৪ শতাংশ মুনাফা অর্জনের পর এটি সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি হার। তবে কভিড-১৯ মহামারী থেকে উত্তরণের সময় ২০২১ সালে মুনাফায় ৯৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি দেখা গিয়েছিল।
গাড়ি উৎপাদন খাতে সেমিকন্ডাক্টরের যে সংকট ছিল, সেখান থেকে দ্রুত অবস্থার উন্নতি হওয়ায় মুনাফা বেড়েছে। অটোমোবাইল ও যন্ত্রাংশ খাতে কোম্পানিগুলোর মুনাফা ৯৫ শতাংশ বেড়ে ৪ দশমিক ৫৫ ট্রিলিয়ন ইয়েনে পৌঁছেছে এবং এটি মোট উৎপাদন খাতের প্রবৃদ্ধির ৪০ শতাংশ। গাড়ি উৎপাদনে দেশটির অন্যতম প্রতিষ্ঠান টয়োটা মোটরের নিট মুনাফা ২ দশমিক ১ গুণ বেড়ে ৩ দশমিক ৯৫ ট্রিলিয়ন ইয়েনে পৌঁছেছে।
উত্তর আমেরিকায় টয়োটার হাইব্রিডসহ অন্যান্য লাভজনক গাড়ির বিক্রি ৯ শতাংশ বেড়েছে। দাম বাড়ার কারণে মার্চে শেষ হতে যাওয়া বছরে কোম্পানিটির পরিচালন মুনাফা ৯৯ হাজার কোটি ইয়েন ছাড়িয়ে যাবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছেন বাজার বিশ্লেষকরা। অন্যদিকে যন্ত্রপাতি উৎপাদন খাতও ভালো প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। এ খাতের মুনাফা বেড়েছে ৩৩ শতাংশ। টানা দ্বিতীয় বছর হিসেবে এপ্রিল-ডিসেম্বরে রেকর্ড মুনাফা করেছে কোমাৎসু। নির্মাণকাজ ও গাড়ি তৈরিতে ব্যবহৃত যন্ত্রের দাম বাড়ায় মুনাফা ১০ হাজার ১৫০ কোটি ইয়েনে পৌঁছেছে। কোমাৎসুর প্রধান অর্থনৈতিক কর্মকর্তা তাকেশি হরিকোশি জানান, উত্তর, মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকায় পণ্যের দাম বাড়ছে।
অন্যদিকে এপ্রিল-ডিসেম্বরে নির্মাতাদের সম্মিলিত নিট মুনাফার পরিমাণ ৬ দশমিক ৮ শতাংশে উত্তীর্ণ হয়েছে, যা ২০০৭ সালের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের পর সর্বোচ্চ। পণ্য তৈরিতে ব্যবহৃত উপাদানের দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদনকারীরা বিক্রির পরিধি ও দাম বাড়িয়েছে।
সুমিতমো মিটসুই ডিএস অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের মাসাহিরো ইচিকাওয়া বলেন, ‘উৎপাদন খাতের সঙ্গে সম্পর্কিত কোম্পানিগুলো তাদের আয় সক্ষমতা বাড়াচ্ছে। মূল্যস্ফীতির কারণে খরচ বেড়ে যাওয়ায় তারা এ উদ্যোগ নিয়েছে।’
প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, ২৮৫টি কোম্পানির মধ্যে এপ্রিল-ডিসেম্বর পর্যন্ত ৫২ শতাংশ কোম্পানি তাদের মুনাফা বাড়াতে সক্ষম হয়েছে। যেখানে ২০২২ সালের একই সময়ে এর হার ছিল ৪৭ শতাংশ। খাদ্যদ্রব্য উৎপাদনকারীদের নিট মুনাফা ৫৬ শতাংশ, বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি উৎপাদনকারীরা ৩ শতাংশ ও নন-ফেরাস মেটাল পণ্যের মুনাফা ২১ শতাংশ বেড়েছে।
মুনাফার প্রবৃদ্ধি বজায় রাখার ক্ষেত্রে পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে। এ কারণে নিক্কেই স্টক অ্যাভারেজে তালিকাভুক্ত ১৮ উৎপাদনকারী কোম্পানির মুনাফা বেড়ে ১ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ইয়েন ছাড়িয়ে গেছে। মিতসুবিশি হেভি ইন্ডাস্ট্রিজ ফর্কলিফটের পাশাপাশি হিটিং ও এয়ার-কন্ডিশনিং সিস্টেমের দাম বাড়িয়েছে। ফলে নিট মুনাফা দ্বিগুণ করার মাধ্যমে ১৩ হাজার ৮০০ কোটি ইয়েন ছাড়িয়ে গেছে।
অটোমোবাইল খাতে পণ্যের দাম বাড়ার কারণে প্যানাসনিক হোল্ডিংস এপ্রিল-ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে ৩৯ হাজার ৯১০ কোটি ইয়েন মুনাফা অর্জন করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় আড়াই গুণ বেশি।










