রুশ ব্যবসায়ীর কাছ থেকে বাজেয়াপ্ত করা একটি সুপারইয়ট রক্ষণাবেক্ষণে বছরে ৭০ লাখ ডলারের বেশি খরচ করছে মার্কিন সরকার। আমাদিয়া নামের ওই ইয়টের মালিক রুশ ধনকুবের সুলেমান কেরিমভ। ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত শুরুর পর নিষেধাজ্ঞার অংশ হিসেবে ইয়টটি জব্দ করে যুক্তরাষ্ট্র। খবর আরটি নিউজ।
ফোর্বস ম্যাগাজিনের বরাত দিয়ে রুশ গণমাধ্যমটি জানিয়েছে, কেরিমভ ও তার পরিবারের সম্পদের পরিমাণ ১ হাজার ৭০ কোটি ডলার। ৩৪৮ ফুট লম্বা ওই ইয়টে হেলিকপ্টার প্যাড, সুইমিংপুল ও সিনেমা হল রয়েছে। মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইয়টটির বার্ষিক শুল্ক প্রায় ৬ লাখ ডলার, যা দেশটিকে বহন করতে হচ্ছে।
আদালতের নথি অনুসারে, জাহাজটির কর্মী বাবদ মাসিক খরচ ৩ লাখ ৬০ হাজার ডলার ও জ্বালানি খরচ প্রায় ৭৫ হাজার ডলার। এছাড়া রক্ষণাবেক্ষণ ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচের পরিমাণ ১ লাখ ৬৫ হাজার ডলার। সম্প্রতি বিলাসবহুল ইয়টটি নিলামের সিদ্ধান্ত নিয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। দেশটির আদালতের অনুমতি পেলেই এটি বিক্রির জন্য নিলামে তুলতে পারবেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ হিসেবে রক্ষণাবেক্ষণের অতিরিক্ত খরচের কথা উল্লেখ করেছেন তারা। ইয়টটির সম্ভাব্য মূল্যনির্ধারণ করা হয়েছে ৩০ কোটি ডলার।
সম্প্রতি ইয়টটির মালিকানা নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। রুশ ব্যবসায়ী এডুয়ার্ড খুদাইনাতভ নিজেকে প্রমোদতরীটির প্রকৃত মালিক বলে দাবি করেছেন। তিনি মার্কিন কর্তৃপক্ষকে নিলামের বিষয়ে চ্যালেঞ্জ করেছেন। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র বলছে এটির প্রকৃত মালিক কেরিমভ। অবশ্য আদালতে মার্কিন প্রসিকিউটররা খুদাইনাতভকে কেরিমভের প্রতিনিধি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অর্থাৎ এডুয়ার্ড খুদাইনাতভের মাধ্যমে ইয়টটি ফিরে পেতে কেরিমভ চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ মার্কিন আইনজীবীদের। এদিকে খুদাইনাতভের আইনজীবীরা ইয়ট বাজেয়াপ্ত করাকে বেআইনি বলে মনে করেন। আদালতকে তারা এ নিলাম বাতিলের জন্য অনুরোধ জানান।
ইউক্রেনে মস্কোর হামলার পর বিভিন্ন ধাপে রাশিয়ার একাধিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। এতে দেশটির ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন ধরনের জটিলতার মুখোমুখি হয়।










