ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) কার্বন বাজারকে সংশোধন করতে নতুন রাজনৈতিক চুক্তিতে পৌঁছেছেন দেশটির নীতিনির্ধারকরা। এর মধ্যে কার্বন নিঃসরণের হার দ্রুত কমানো, সড়কপথে যোগাযোগ ও ঘরে ব্যবহূত জ্বালানিতে নতুন কর আরোপের বিষয়ও রয়েছে। খবর রয়টার্স।
কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গমনের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত অঞ্চলগুলোয় ১০ হাজারের বেশি পাওয়ার প্ল্যান্ট ও কারখানা প্রয়োজন। ১৯৯০ সালের তুলনায় ২০৩০ সাল নাগাদ নিঃসরণের হার ৫৫ শতাংশ কমিয়ে আনার জন্য এটি একটি কেন্দ্রীয় পদ্ধতি। ইইউ অধিভুক্ত দেশগুলো ও ইউরোপিয়ান সংসদ যে চুক্তিতে সম্মত হয়েছে তার অধীনে অঞ্চলটির কার্বন বাজার পুনর্গঠন করা হবে। যার মাধ্যমে ২০০৫ সালের তুলনায় ২০৩০ সাল নাগাদ কার্বন নিঃসরণ ৬২ শতাংশ কমিয়ে আনা হবে।
পরিকল্পনার আওতায় ২০২৪ সালের মধ্যে সিস্টেম থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণে নয় কোটির বেশি অনুমতি বাতিল করা হবে। ২০২৬ সাল নাগাদ আরো ২ কোটি ৭০ লাখ বাতিল করা হবে। ফলে ২০২৪-২৭ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণ হার ৪ দশমিক ৩ এবং ২০২৮-৩০ সাল পর্যন্ত ৪ দশমিক ৪ শতাংশ কমিয়ে আনা হবে।
ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের প্রধান আলোচক পিটার লিয়েজে বলেন, ২০২৭ সাল থেকে সংকটের সময়। সে সময়ের মধ্যে সবাইকে কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ কমাতে হবে। তা না হলে বড় ধরনের খেসারত দিতে হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, অন্তিম সময়ের আগেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশ সবুজ শক্তিতে বিনিয়োগে উৎসাহী হবে।
বিদেশী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে বর্তমানে ইইউ কারখানাগুলোকে বিনামূল্যে কার্বন নিঃসরণের অনুমতি দিচ্ছে। তবে ২০২৬-৩৪ সালের মধ্যে এ সুবিধা বন্ধ করে দেয়া হবে। যেহেতু ইউরোপীয় ইউনিয়ন কার্বন নিঃসরণের জন্য কর প্রদানের নতুন পদ্ধতি চালু করতে যাচ্ছে, তাই এসব সুবিধা অচিরেই বন্ধ হয়ে যাবে।
১৬ ডিসেম্বর কথোপকথন শুরু হয়ে ৩০ ঘণ্টা চলে। এ সময় ইইউ নতুন কার্বন মার্কেট চালুর বিষয়েও সম্মতি জানায়। এর মাধ্যমে গাড়ি ও বাড়িতে যে জ্বালানি ব্যবহার করা হয়, সেগুলোর সরবরাহকারীদের সুরক্ষিত রাখবে। তবে আইনপ্রণেতারা এর বিরোধিতা করেছিলেন। পরে আলোচকরা কার্বন নিঃসরণে অতিরিক্ত করের হাত থেকে অধিবাসীদের সুরক্ষিত রাখতে একমত পোষণ করেন।
২০২৭ সালে যদি জ্বালানির উচ্চমূল্য বহাল থাকে, তাহলে কার্বন মার্কেট বা বাজার চালু ২০২৮ সাল পর্যন্ত পিছিয়ে যাবে। সেখানে কার্বন নিঃসরণ কর ৪৭ ডলার ৬২ সেন্ট ছাড়িয়ে গেলে অতিরিক্ত অনুমতি প্রদানের বিষয়টি বাজারে উন্মুক্ত করে দেয়া হবে। কার্বন নিঃসরণে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কর হার কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
ভোক্তা ও ছোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো যেন কার্বন নিঃসরণ খরচ মোকাবেলা করতে পারে এবং শক্তিসাশ্রয়ী ভবন সংস্কার বা বৈদ্যুতিক যানবাহনে বিনিয়োগ করতে পারে, সেজন্য ৮ হাজার ৬৭০ কোটি ইউরোর তহবিলও চালু করবে।










